সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্যের ৬০ রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার সেই অনুদান তাদের হাতে তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে তারকেশ্বর সহ রাজ্যের একাধিক ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের জন্য একের পর এক ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘এবারের তালিকায় যদি কোনও ত্রুটি থাকে, তাহলে ক্ষমা করে দেবেন। আগামিদিনে জেলাশাসকদের জানালে ত্রুটিমুক্ত তালিকা তৈরি করার চেষ্টা হবে। রথযাত্রার ঐতিহ্যকে উৎসবে পরিণত করার চেষ্টা করব ধীরে ধীরে।’ ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিগুলি এই অনুদান পেলে কিছুটা উপকৃত হবে। কমিটিগুলি পুরনো রথগুলি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কাজে এই টাকা ব্যয় করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ঐতিহ্য ও উন্নয়নকে নিয়ে এগোতে চায়। ঐতিহ্যবাহী রথগুলি মেরামত-সংরক্ষণের প্রয়োজন আছে। দশকের পর দশক পুরনো রথযাত্রাগুলিকে অনুদান দেওয়া হবে। উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গ একসময় সাংস্কৃতিক রাজধানী ছিল শুধু তা নয়, আধ্যাত্মিক পিঠস্থানও ছিল। শত শত বছর এর পুরনো রথযাত্রা আছে। যারা আমাদের ঐতিহ্য, মিলন ক্ষেত্রে রূপ নেয়। এবার এই রথযাত্রায় সক্রিয় ভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গে ৭৫টি রথযাত্রাতে সেবাকেন্দ্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নূন্যতম পরিষেবা দেওয়া হবে এতে। ৬০টি রথযাত্রাকে আজ ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। প্রথম বছর তালিকা তৈরিতে কোনও ভুল থাকলে ক্ষমা করবেন। আগামী দিনে আপনারা জেলাশাসকদের জানান। আগামী দিনে ত্রুটিপূর্ণ তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করব। এটা সবে শুরু।’
তীর্থক্ষেত্রে সার্কিট নামে একটি ব্যবস্থার কথাও এদিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের কীরিটেশ্বরী সহ একাধিক প্রাচীন ঐতিহাসিক মন্দির সংস্কার ও হেরিটেজের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী ২ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নে মোট ১০০০ কোটি বরাদ্দ করছে রাজ্য সরকার। শ্রাবণ মাসে তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলার আয়োজন করা হয়। এবার সেই মেলা উদ্বোধনে যাবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, মোট ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে তারকেশ্বরের জন্য। ওই তীর্থক্ষেত্রকে সাজানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে অনুদান। শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত রাস্তায় ৫ কিমি অন্তর ‘সেবা কেন্দ্র’ রাখা হবে। জলযাত্রীরা এতে উপকৃত হবেন।
এছাড়া, আবহাওয়া ঠিক থাকলে প্রতি সোমবার এই জলযাত্রীদের উপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে গোলাপ বৃষ্টি করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তারকেশ্বরের পাশাপাশি জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির ও ভূটান সীমান্তে জয়ন্তী এালাকার মন্দিরের ভক্তদের জন্য পুলিশি সহায়তা ক্যাম্প, মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে। শ্রাবণ মাস জুড়ে সেখানে জল, ওআরএস সহ সবরকম সহযোগিতা করা হবে। বিশ্রামের জায়গাও রাখা হচ্ছে। শ্রাবনী মেলা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, ‘সামনেই শ্রাবণ মেলা। সেই শ্রাবণ মেলায় যেসব তীর্থযাত্রী শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যাবেন তাদের জন্য পাঁচ কিলোমিটার অন্তর সেবা কেন্দ্র তৈরি করা হবে। তারকেশ্বরে যেসব তীর্থযাত্রী পৌঁছবেন তাঁদেরকে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।’

এছাড়া, ভারত সেবাশ্রমের হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। রামকৃষ্ণ মিশনের বিভিন্ন প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছে। সিমলায় স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থানে ৫ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে রাজ্য সরকার।