শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলাকে তৃণমূল শূণ্য করব। বিধানসভা ভোটের পরে গোল্লা নিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরবেন মমতা।’ এভাবেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে কয়েক মাস বাকি থাকবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের উদ্দেশ্যে হুংকার দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফের ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা।শুভেন্দু বলেন, ‘একদম ভয় পাবেন না। আমি শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি হারিয়েছি। ২৬-এ ভবানীপুরে হারাব। তৃণমূল রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করেছে। তৃণমূল সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বপণ করেছে।’ এদিন একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতিও শোনা গেছে বিরোধী দলনেতার মুখে। শুভেন্দু বলেন, ‘বিজেপিকে প্রতিষ্ঠিত করব। লড়াই আরও তীব্র হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। প্রত্যেক শিক্ষিত যুবকদের চাকরি দেবো, পরিযায়ীদের বাড়ি ফেরাব।’
পাল্টা শুভেন্দু অধিকারীকেই ভবানীপুরে এক লক্ষ ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী কে চ্যালেঞ্জ করছি ক্ষমতা থাকলে ভবানীপুরে দাঁড়ান। এক লাখ ভোটে হারাব। এলেবেলে তেলে কে দাঁড় করিয়ে দিয়ে নিজে কেটে পড়বেন না। ক্ষমতা থাকলে দাঁড়ান বুঝে নেব।’
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মমতাকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে জবাব : আপনি আবার মিথ্যে বলছেন, তথ্য বিকৃতি করে, নিজের দুর্নীতিগ্রস্ত এবং চাটুকার অনুগত প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভুয়ো গল্প রটাচ্ছেন, আর বিএলও-দের জন্য মিথ্যে কান্না দেখাচ্ছেন। স্বাধীন তদন্তে প্রকৃত সত্য প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আপনার কথার সামান্যও মূল্য নেই। সোজা কথায় বলি : বাংলার মানুষ — নারী, যুবক-যুবতী, সৎ নাগরিক— সকলে চান এস আই আর প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গতভাবে ও কার্যকরীভাবে হোক, যাতে ভোটার তালিকা থেকে অবশেষে অনুপ্রবেশকারী, ডুপ্লিকেট, অনুপস্থিত, ভূতুড়ে ও মৃত ভোটারদের নাম সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা যায় — যাদের ওপর ভর করেই আসলে আপনি ক্ষমতায় টিকে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন-কে প্রশ্ন করার আগে আপনাকে বাংলার মানুষকে কয়েকটি জবাব দিতে হবে:
বিএলও-দের ১৮,০০০ টাকার প্রাপ্য পরিশোধ এখনও কেন হয়নি?
এই প্রস্তাব তো বহুদিন ধরে আপনার অর্থ দফতরেই আটকে আছে।
বিএলও-দের জন্য ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দেওয়া হচ্ছে না কেন?

এতে তাদের কাজ অনেকটা হালকা হয়ে যেত। এমনকি বিহার একই ধরনের কাজের জন্য চার মাসে ১,০০০-রও বেশি ডিইও নিয়োগ করেছে।
৮ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনভোগীকে বছরের পর বছর ডিএ না দেওয়ার সময় আপনার কান্না কোথায় ছিল? আপনি তো খুব তাড়াতাড়ি টুইট করেন, তাহলে ডিউটিরত অবস্থায় যেসব বিএলও মারা গেছেন, তাদের পুলিশ রিপোর্ট ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আপনার প্রশাসন এখনও কেন দেয়নি?
এর ফলে তাদের পরিবার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আর বাংলাকে এটাও জানান : সারদা, রোজ ভ্যালি ও অন্যান্য চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অসংখ্য মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন— তখন আপনার কান্না কোথায় ছিল? যখন আপনার দল দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করছিল?বাংলার মানুষ সবই দেখছেন। সত্য বাইরে এসে গেছে।’