সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার 31 বিধানসভার মধ্যে 31 আসনেই জয় চাই। কোন বিধান সভা কেন্দ্রে যেন জয়ের মার্জিন ৫০ হাজারের কম না হয়।’ এভাবেই আজ বারুইপুরের জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কাছে টার্গেট বেঁধে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে যেভাবে নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ এর কাছে ভাঙ্গড় বিধানসভায় হেরে যেতে হয়েছিল তৃণমূলকে। সেই ভাঙ্গড় পুনর্দখলের ডাক দিলেন অভিষেক।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘বিজেপির কাছে মাথানত করা যাবে না। যারা ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে ভাতে মারতে চেয়েছিল তাদের জবাব দিতেই হবে। তাই এই জেলায় ৩১টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসনই জিততে হবে। সব কটা আসন চাই। যাতে এখানে দাঁত ফোটাতে না পারে বিজেপি। এটা আপনারা দেখে নিন। বাকি বাংলা আমি দেখে নেব। কোনও আসনের জয়ের ব্যবধান যেন ৫০ হাজারের নীচে না হয় এই জেলায়।’
আগামী ১৯ দিনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ২৬টি সভা করার পরিকল্পনার কথাও জানান অভিষেক। তার মন্তব্য, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা—আজ তারই শুভসূচনা করলাম।’ তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণ ২৪ পরগণা। তবু এখান থেকেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করার কারণ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘শুভ কাজে বেরোতে গেলে বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিতে হয়। কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা আমার কর্মভূমি। বাম আমলে এখান থেকেই পালাবদলের শুরু হয়েছিল। তাই এখান থেকেই ছাব্বিশের প্রচার শুরু করলাম।’

সম্প্রতি গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এক প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘প্যাটিস বিক্রেতাকে মারছে, এর জবাব বাংলা দেবে না? দিল্লির বাবারা ঠিক করবে? ২ মাসে ৫৬টা প্রাণ .চলে গেছে। মায়েরা জবাব দেবেন না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন আছে, বাংলার মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকালে গণতান্ত্রিক উপায়ে ২১, ২৪ এর পুনরাবৃত্তি হবে ছাব্বিশেও।’ বিজেপি যাতে বাংলাকে ভাতে মারতে না পারে তার জন্য এখন থেকেই মাঠে পড়ে থেকে লড়াই করার ডাক দেন অভিষেক। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ বলেন, ‘২০০৮ সালে সিপিএমের সূর্য যখন মধ্যগগনে তখন বিপরীতে চাকা ঘুরিয়ে ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাটি। তাই এই মাটি থেকেই সভা শুরু করলাম। কিন্তু আপনাদের কথা দিতে হবে এই জেলাটা আপনারা বুঝে নেবেন। বাকি বাংলা আমি বুঝে নেব।’

বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বলে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানিয়েছেন অভিষেক। নির্বাচন কমিশন যে বৈধ ভোটারদের মৃত বলে বাদ দিয়েছে তার প্রমাণ তুলে ধরার জন্য নির্বাচন কমিশনের খাতায় ‘মৃত’দের মঞ্চে তুলে আনেন অভিষেক। ভাষণের মাঝপথেই ব়্যাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেকের বক্তব্য, ‘অনেকে ভাবছেন, এই ব়্যাম্পটা কেন করা হয়েছে। আজ এই ব়্যাম্পে আমি তিন জন ‘ভূত’কে হাঁটাব। কমিশন যাঁদের মৃত বলেছে, তাঁরা আজ এখানে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ।’ তার পরই মঞ্চে উঠে আসেন মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস।

তাঁদের দিকে ইঙ্গিত করে জনতার উদ্দেশে অভিষেকের প্রশ্ন, ‘দেখতে কি মৃত মনে হচ্ছে? এঁরা বেঁচে আছেন—আপনারা দেখছেন। কিন্তু কমিশন নাকি দেখতে পাচ্ছে না! দু’জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ, একজনের কাকদ্বীপ। এভাবে জ্যান্ত লোকেদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে, তাই এই ব়্যাম্প—’মৃতদের’ হাঁটতে দেখানোর জন্যই।’ মৃত মানুষ কখনও র্যাম্পে হাঁটতে পারেন? প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই বিষয়ে অভিষেকের বক্তব্য, ‘২০২৬ সালে আর একবার লাইনে দাঁড়াবেন। কারণ ভোট দিতে হবে। আর এমনভাবে বোতাম টিপবেন যাতে দিল্লিতে আওয়াজ শোনা যায়। বিজেপির সাংসদ, মন্ত্রী, নেতারা আমাদের বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা বলে দেয়। এসআইআরের নাম করে এত মানুষের প্রাণ নিয়েছে। সেই ঘটনার জবাব দিতে হবে তো।’

২০১৪ সালে দেশের ক্ষমতায় বসার সময় বিজেপির স্লোগান ছিল বছরে ২ কোটি চাকরি। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল, ১১ বছরে কত চাকরি হয়?বাংলার কথা ছেড়ে দিলাম, গুজরাট বা উত্তরপ্রদেশে যদি দেখাতে পারে এক একটা বিধানসভায় অন্তত ৫ হাজার চাকরি দিয়েছে, তাহলে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না।’