গোপন সূত্রের খবরেই অভিযান, পূর্ব শীতলা উদয়নপল্লীতে মাদকচক্রের হদিশ পেয়ে তৎপর পুলিশ
রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
সোনারপুর: মাদকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানে প্রশাসন। আর সেই লড়াইয়ে ফের বড় সাফল্য পেল সোনারপুর থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া একটি তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে উদ্ধার হল ২৫ কেজিরও বেশি গাঁজা। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে। বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে খবর আসে যে সোনারপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বিদ্যাধরপুরের পূর্ব শীতলা উদয়নপল্লী এলাকার একটি বাড়িতে বিপুল পরিমাণ গাঁজা মজুত করে রাখা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর আর দেরি করেনি পুলিশ। এসআই সুরজিৎ দাস সরকারের নেতৃত্বে সোনারপুর থানার একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে।
এরপর শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। অভিযানের সময় বাড়ি থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম খোকন হালদার বলে জানান। তাঁর বাড়ি সোনারপুর থানার ঘাসিয়াড়া এলাকার পূর্বপাড়া কাঠপোল অঞ্চলে।
পুলিশের দাবি, বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়েই সামনে আসে চমকে দেওয়া তথ্য। বিভিন্ন প্যাকেটে মজুত রাখা ছিল বিপুল পরিমাণ গাঁজা। আইন মেনে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গোটা তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর উদ্ধার হওয়া মাদকের ওজন করে দেখা যায়, মোট ২৫.৮২১ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এত বড় পরিমাণ মাদক শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য মজুত ছিল বলে মনে হচ্ছে না। এর পিছনে কোনও বড় পাচারচক্র বা সরবরাহ নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, সেই দিকেও নজর দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
https://kolkatasaradin.com/2026/04/14/lovely-maitra-asset-growth-gold-wealth-sonarpur-south/
অভিযানের পরই খোকন হালদারকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে সোনারপুর থানা। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কিছু সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়ছিল। যদিও এত বড় পরিমাণ মাদক উদ্ধার হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ—দুই-ই বাড়ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বেশ কয়েক মাস ধরেই রাত নটার পর থেকে ঘাসিয়ারা থেকে শুরু করে রামচন্দ্রপুর মোড় এবং শীতলা কাটপোল থেকে বিদ্যাধরপুর স্টেশন যাওয়ার পথের রাস্তায় প্রকাশ্যে বসছে মদ এবং গাঁজার আসর। রাতে পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠছে যে সাধারণ মানুষের বিশেষ করে মহিলাদের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে উঠছে এই দুটি এলাকা। কারণ এই এলাকায় বিশেষ করে শীতলা পূর্ব শীতলা এবং বিদ্যাধরপুর স্টেশন পর্যন্ত জায়গায় প্রায় প্রত্যেক পাড়াতেই স্থানীয় কিছু তৃণমূল নেতার মদতে রাতারাতি গজিয়ে উঠেছে জুয়া এবং সাট্টার ঠেক। পুলিশি নজরদারির অভাবে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের মদতে সমাজ বিরোধীদের কার্যকলাপ বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

মাদক কারবারের শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে? খোকন হালদার কি শুধুই একজন বাহক, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তে নেমেছে পুলিশ।