দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক, এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া তৃণমূলত্যাগী ২০ সাংসদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদ। এমনকি, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। বিশেষ নজর কেড়েছে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন রাজ্যসভার সাংসদ, প্রকাশ চিক বরাইক, সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দু শেখর রায়ের উপস্থিতি।
প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিশেষভাবে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠানের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী পৃথকভাবে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আজকে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বঙ্গভবনে মধ্যাহ্নভোজ করলাম। নিজেদের বেশ কিছু সমস্যার কথা তাঁরা আমাকে জানাতে চেয়েছিলেন, সেগুলি শুনলাম। সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ নিয়েও কথা হয়েছে।’
এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া সব সাংসদই বৈঠকে ছিলেন কি না প্রশ্ন করায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে শুভেন্দু বলেন, বৈঠকের ছবি তোলা হয়েছে তো। এক, দুই, তিন, চার করে গুনে দেখে নিন। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তেও পারে। তৃণমূলে বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা তো সবে শুরু, দেখুন না এর পর আর কী হয়!
বৈঠক শেষে বেরিয়ে এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, ‘বৈঠকে এনসিপিআই বা দলীয় রাজনীতি নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও আলোচনা হয়নি। মূলত আমাদের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে। বৈঠক ভীষণ ভাল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী দিনে আমরা নবান্নে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠক করব।’
শতাব্দী রায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও জল্পনার আগুনে ঘি ঢাললেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গভবন থেকে বেরোনোর সময় এনসিপিআই-এর অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। হাসিমুখে রচনা বলেন, ‘আমরা ২০ জনই একসঙ্গে আছি। তবে এখনই কিছু শেষ ভাববেন না, এই সংখ্যাটা খুব শিগগিরই আরও বাড়তেও পারে। কাদের কথা বলছি, তা আপনারা নিজেরাই বুঝে নিন!’ মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, ‘এনসিপিআই এনডিএকে আগেই সমর্থন করেছে। তিনজন সাংসদের নিজস্ব কিছু সমস্যা ছিল। তাঁরা সমস্ত কিছু মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। পরিস্কারভাবে কথা হয়েছে। তাঁরা আমাদের সঙ্গেই আছেন।’ এখানেই যে কোনও বিতর্ক নেই তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বাপি হালদার। পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে যে বিস্তারিত চর্চা হয়েছে তাও জানান তিনি। বাপি হালদার বলেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে আছেন। আগে যে কথা দিয়েছিলেন, তা নিশ্চিত করেছেন আরও একবার।’
বঙ্গভবনের এই বৈঠকের পর স্পষ্ট যে, রাজ্য রাজনীতিতে অন্দরের সমীকরণ বেশ দ্রুত বদলাচ্ছে। এনসিপিআই সাংসদদের এই অবস্থান এবং নবান্নে পরবর্তী বৈঠকের বার্তা আগামী দিনে কোনো বড় রাজনৈতিক নাটকের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ ওয়াকিবহাল মহল। এনসিপিআই সাংসদদের স্বীকৃতির বিষয়টি ঝুলে থাকায় সাংসদদের কেউ কেউ ধৈর্য হারাচ্ছেন! কেউ আবার এনডিএ-র শরিক হয়ে থাকার বদলে স্বতন্ত্র্যতা চাইছেন। মুর্শিদাবাদের জেলার তিন সাংসদের দাবি তেমনই। আবু তাহেরের কথায়, ‘’সংসদে মুসলিম স্বার্থ বিরোধী কোনও বিল এলে আমরা প্রতিবাদ করব।উন্নয়ন না হলে আমরা থাকব না।’ সেই কারণে তাঁদের মূল লক্ষ্য, পৃথক দলের স্বীকৃতি। এর মাঝে দুবার এনডিএ-র বৈঠকে গরহাজির এবং সংসদ চত্বরে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে দেখা, গল্পগুজবের ছবিতে অন্য জল্পনা উসকে উঠেছিল। তিনজন কি আবার মমতা শিবিরে ফিরতে চাইছেন? এনিয়ে যদি কোনও পক্ষ কিছু বলেনি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। খুব ভালো কথা হয়েছে।’ এরপর তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে যান।