ভারতের আশ্রয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেন হাসিনা, বাংলাদেশে ফিরলেই গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি প্রশাসনের
শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
দীর্ঘ নীরবতার পর হঠাৎই বড় রাজনৈতিক বার্তা। ভার্চুয়াল ভাষণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ঘোষণা করলেন, যাই ঘটুক না কেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। এমনকি দেশে ফিরে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বা প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকতে পারে—এ কথা উল্লেখ করেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এই ঘোষণার পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান—বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেই আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। দুই পক্ষের এই অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের প্রচার চলছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। তবে তাঁর কথায়, ক্ষমতায় ফেরাই তাঁর উদ্দেশ্য নয়; বরং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ বা ব্যক্তিগত ঝুঁকিও তাঁকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারবে না।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করেন না। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
ভারতে আশ্রয় পাওয়ার প্রসঙ্গেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন পর্বে প্রবেশ করছে। যদিও এই মূল্যায়ন বিশ্লেষকদের মতামত, এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, বর্তমান বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলি বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলির আইনি প্রক্রিয়া অনুসারেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, তিনি দেশে ফিরলে তাঁকে আদালতের সামনে হাজির করা হবে এবং আইন অনুযায়ী বিচার চলবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সমস্ত আইনি সুযোগও তিনি পাবেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে। একাংশের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। আবার অন্য অংশের মতে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।
এদিকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা এবং প্রশাসনের কড়া অবস্থান—দুইয়ের সংঘাতে আগামী দিনে কী ঘটতে চলেছে, তা নিয়েই এখন কৌতূহল বাড়ছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেখ হাসিনা সত্যিই কবে বাংলাদেশে ফিরবেন? আর ফিরলে সেই দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কী নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে?