সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একা নয় পাকিস্তানের মদত পুষ্ট জঙ্গি হামিম মন্ডলের নিশানায় ছিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায় এবং তাঁর পরিবার। হাওড়া থেকে জঙ্গি যোগ সন্দেহে তৃতীয় গ্ৰেফতারের পর এমন বিষ্ফোরক তথ্য জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।
বর্ধমান থেকে জঙ্গিযোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে সোমবার হাওড়া থেকে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হল। ধৃতের নাম আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা তিনি। উমেশচন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সূত্রের খবর, রাতেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাঁকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর সকালে গ্রেফতার করা হয় আদিত্যকে।
রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি, মন্ত্রীকে খুনের এবং তাঁর পুত্রকে অপহরণ করার কথা বলা হয়েছিল। ফোন করেছিলেন আবিদ জাঠ নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ, মন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সমস্ত তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আবিদ। প্রথমে এই হুমকি-ফোনকে উমেশ তেমন পাত্তা দেননি। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান। গোটা ঘটনার তদন্তভার যায় এসটিএফের হাতে। সেই তদন্তের সূত্রেই বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয় হামিমকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ায় রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইকে খুনের হুমকি দিয়ে যে ফোন করা হয়েছিল, তার সঙ্গে এই আদিত্যের যোগ রয়েছে। তিনিই মন্ত্রীর বিভিন্ন তথ্য হামিমকে দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন খুঁটিনাটি সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল বলেও পুলিশের সন্দেহ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার আদিত্যের বাড়িতে যায় পুলিশ। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। তাঁর ঘরে তল্লাশিও চালানো হয়। আদিত্যের মা বলেন, ‘আমার ছেলে পড়াশোনা করে। কেন ওকে নিয়ে গেল, কার সঙ্গে কী কথা বলত, আমরা কিচ্ছু জানি না।’ জানা গিয়েছে, ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যর একটি গেমিং অ্যাপের সূত্রে আলাপ। খুব কম সময়ের মধ্য়ে বন্ধুত্ব গভীর হয়ে ওঠে। সেই সুযোগে জঙ্গি হামিম আদিত্যর মগজধোলাই করে বলেই সূত্রের খবর। মগজধোলাইয়ের পর তাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয় হামিম। পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি চালানোর কাজ দেওয়া হয়। মন্ত্রী ও মন্ত্রীপুত্র সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সে হামিম ও তার বান্ধবী অর্পিতাকে পাচার করত বলেই খবর।

হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করে আদিত্যর খোঁজ পাওয়া যায়। তাকে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদিত্যকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাকে জেরা করবেন তদন্তকারীরা। জঙ্গি হামিম ঠিক কতদূর শিকড় ছড়িয়েছে, তার উৎসের খোঁজে এসটিএফ।