চাঞ্চল্যকর দাবি তদন্তকারীদের—ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাই নাকি সাজিয়েছিল মৃত্যুর ফাঁদ! এবার নজরে ফোন, টাকা আর রাজনৈতিক যোগসূত্র
কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলির মধ্যে অন্যতম [Chandranath Rath Murder Case]। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রকাশ্য রাস্তায় গুলিতে খুন হন [Suvendu Adhikari]-র ঘনিষ্ঠ সহকারী [Chandranath Rath]। সেই মামলাতেই এবার বড় সাফল্যের দাবি করল সিবিআই। প্রায় তিন মাসের তদন্তের পর গ্রেফতার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে, যাদের তদন্তকারীরা এই হত্যার নেপথ্যের অন্যতম ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ বলে মনে করছেন।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। সিবিআই সূত্রের দাবি, ধৃতদের একজনের ফোন থেকে একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের ল্যান্ডলাইন নম্বরে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও ওই দলের নাম এখনও প্রকাশ করেনি তদন্তকারী সংস্থা এবং এই দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) গ্রেফতার করা হয়েছে সাগর সোনকর এবং সাহেব সোনকরকে। সিবিআইয়ের দাবি, দীর্ঘদিন [Chandranath Rath]-এর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকার সুবাদে তাঁর প্রতিদিনের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতেন তাঁরা। সেই তথ্যই নাকি পরে পৌঁছে যায় ভাড়াটে শুটারদের কাছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, শুধু তথ্য সরবরাহ নয়, হামলার পরিকল্পনা, শুটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সুপারি কিলিংয়ের পুরো ছক কষার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল এই দুই ভাইয়ের। ধৃতদের জেরা করে এখন গোটা ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের চিত্র স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ মে। [Madhyamgram, North 24 Parganas]-এর কাছে বাইকে চেপে আসা আততায়ীরা খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন [Chandranath Rath]। দিনের আলোয় ঘটে যাওয়া এই হামলা মুহূর্তের মধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।
প্রাথমিক তদন্তের পর মামলার দায়িত্ব যায় সিবিআইয়ের হাতে। গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। এরপর [West Bengal], [Uttar Pradesh] এবং [Bihar]-এর একাধিক জেলায় টানা অভিযান চালিয়ে ধরা হয় সন্দেহভাজন শুটারদের। উদ্ধার করা হয় হামলায় ব্যবহৃত মোটরবাইক ও গাড়িও।
এর আগে রাজকুমার সিং, মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য, জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু, নবীন কুমার সিং এবং গোলু সিং ওরফে টাইগার-সহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তদন্তকারীদের মতে, সাম্প্রতিক এই দুই গ্রেফতার গোটা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এখন তদন্তের ফোকাস তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে—ভাড়াটে খুনিদের কাছে টাকা পৌঁছল কীভাবে? কোনও হাওয়ালা নেটওয়ার্ক ব্যবহার হয়েছিল কি? আর পর্দার আড়াল থেকে গোটা অপারেশন পরিচালনা করছিল কারা?
তদন্তকারীদের দাবি, কল ডিটেল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং ডিজিটাল প্রমাণ একসঙ্গে মিলিয়ে বড় চিত্রটি তৈরি করার কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই গ্রেফতার শুধু দুই অভিযুক্তকে ধরার ঘটনা নয়; বরং তদন্ত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ নাম। যদিও এই বিষয়ে সিবিআই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
এখন রাজ্যের নজর একটাই প্রশ্নে—এই দুই গ্রেফতার কি শুধুই শুরু? নাকি চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পুরো চক্রের মুখোশ খুলতে চলেছে তদন্ত? আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই হয়তো দেবে সেই বহুল প্রতীক্ষিত উত্তর।