হাইকোর্টে বড় স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ৩ থানার মামলায় আপাতত কড়া পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্য রাজনীতিতে মোড় ঘোরানো আইনি পদক্ষেপ! তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত কোনো কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এক রায়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেককে এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট কতগুলি এফআইআর রুজু হয়ে রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত মে মাসে রাজ্য রাজনীতিতে পটপরিবর্তন ও বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে, এই মর্মে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মোট ১১টি এফআইআর তাঁর বিরুদ্ধে করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা কয়েক বছর আগের পুরনো ঘটনার ভিত্তিতে সাজানো।
অভিষেকের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে সওয়াল করে জানান, ২০২০ সালের আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ বন্টনে অনিয়ম এবং ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেআইনি খনি কারবারের মতো একাধিক পুরনো অভিযোগে হঠাৎ করে নতুন করে এফআইআর করা হচ্ছে। অভিষেকের আইনজীবীর প্রশ্ন, এত বছর ধরে কেন কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি? তাছাড়া প্রাথমিক দৃষ্টিতে এসব অভিযোগে অভিষেকের কোনো সরাসরি ভূমিকার প্রমাণ নেই। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, রিট পিটিশনে কেবল ৩টি এফআইআর-এর বিস্তারিত তথ্য থাকায় আপাতত সেই ৩টি নির্দিষ্ট মামলাতেই নজর দেওয়া হবে। ভবানীপুর, কালীতলা এবং বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর-এ রক্ষাকবচ পেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।
রাজ্য ও রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের তরফ থেকে এই অন্তর্বর্তী স্বস্তির আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু সওয়ালে বলেন, একজন ব্যক্তি একটিমাত্র আবেদন পেশ করে একসঙ্গে এতগুলি এফআইআর বাতিল বা রক্ষাকবচ চাইতে পারেন না।
তুষার মেহতা দাবি করেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ সুবিধা বা ‘স্পেশাল ট্রিটমেন্ট’ চাইছেন। সাধারণ নাগরিকদের মতো তিনি আগাম জামিনের আবেদন না করে এই পথ বেছে নিয়েছেন।’ জবাবে বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘কিন্তু সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণ এফআইআর সাধারণ দেখা যায় না।’