সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘১০ সপ্তাহের এই সরকার ধীরে ধীরে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। আপনারা বাংলায় ফিরতে শুরু করুন, কারখানায় কাজ ও সরকারি চাকরি নিশ্চিত করা হবে।’ সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে অর্থ সাহায্য ও চাকরি তুলে দিয়ে এভাবেই ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার ২১ লক্ষ টাকা করে পেয়েছে। সিকিমে দুর্ঘটনার উদ্ধারকাজ পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম সরকার একসঙ্গে করেছে। মৃতদের পরিবারের ৭ জনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা এবার রাজ্যে ফিরতে শুরু করুন। সবাই জব কার্ড করে ফেলুন, বছরে ১২৫ দিনের কাজ দেব। রেশনে নিম্নমানের আটা বন্ধ করে উন্নত মানের গম দেওয়া হচ্ছে। আয়ুষ্মান দিবসে আয়ুষ্মান কার্ড বিলি শুরু হবে। এটা এখন উন্নয়নের অমৃতকাল’। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উন্নয়নের পথে পশ্চিমবঙ্গ
জলপাইগুড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন সরকারের তোষণনীতির কারণে তৈরি হওয়া ওবিসি আইনি জটিলতা বিধানসভায় নতুন আইন এনে এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে সবুজ সংকেত নিয়ে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া, অবিন্যস্ত ও প্রান্তিক শ্রমিকদের জন্য পুরনো ও নতুন—উভয় জব কার্ডেই বছরে ১২৫ দিনের নিশ্চিত কাজ এবং ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাছাড়া অগস্ট মাস থেকেই বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিম্নমানের আটার বদলে রেশনে ভাল মানের গম সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ অগস্টকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর কথায়, ‘১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এ হাজার হাজার হিন্দু প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিগত সরকার ওই দিনটিকে ‘খেলা হবে দিবস’ করেছিল। আমরা সেই জায়গায় আয়ুষ্মান দিবস উদযাপন করে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেব।’
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আয়ুষ্মান দিবসে আয়ুষ্মান কার্ড বিলি করা হবে। যারা আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডের আওতায় আসছেন না, যেমন ৭০ ঊর্ধ্বও সকলে পাবেন। ৪০ লক্ষ সিনিয়র সিটিজেন সুযোগ পাবেন। যারা আয়ুষ্মানের আওতায় আসছে না তারা রাজ্যের সরকারের নিজস্ব স্কিমের সুবিধা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুযোগ পাবেন। গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে যেখানে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়া যায় সেখানে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে। আয়ুষ্মান যোজনার পোর্টালে নাম তোলার কাজ চলছে। স্বাস্থ্য সাথীর ডেটাকেই একত্র করার কাজ চলছে। যতক্ষণ কাজ চলছে ততক্ষণ স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হবে না। আয়ুষ্মান কার্ড হয়ে গেলে তখন স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হবে। কারও অসুবিধা হবে না।’
‘কলম থামবে না’ সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে ধর্মতলায় ঐক্যের গর্জন, রাজপথে নামলেন সংবাদকর্মীরা
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রসঙ্গে
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার নথি ভেরিফিকেশন চলছে এবং ৩০ অগস্টের মধ্যে যোগ্য মহিলারা এই প্রকল্পে নথিভুক্ত হয়ে যাবেন। যাঁরা এখনও টাকা পাননি কিন্তু যোগ্য, তাঁরাও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে টাকা পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা অনেকে পেয়েছেন। অনেকের আবেদন আন্ডার ভেরিফিকেশনে রয়েছে। ৩০ অগস্ট এর মধ্যে যোগ্য মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনায় নথিভুক্ত হয়ে যাবেন। যাঁরা পাওয়ার যোগ্য স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তাঁরা পেয়ে যাবেন।’