কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ, কোভিড-পরবর্তী উদ্বেগ, মনঃসংযোগের অভাব— এই সমস্ত কিছু মিলেই ২০২১ সালের পর কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য এক বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুইডেনের একটি বেসরকারি সংস্থা এরিকা লাস্ট ফিল্মস (Erika Lust Films) এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল— “স্বমেহন বিরতি” বা Masturbation Break।
কী এই ‘স্বমেহন-বিরতি’?
এই পদক্ষেপ অনুযায়ী, সংস্থার প্রত্যেক কর্মী দিনে ৩০ মিনিটের একটি নির্দিষ্ট সময় পান নিজেদের মানসিক চাপ হ্রাস করার জন্য। এবং এই সময়ের মধ্যে তাঁরা চাইলে নিজেদের মতো করে বিশ্রাম নিতে পারেন, এমনকি স্বমেহনের পথও অবলম্বন করতে পারেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য— কর্মীদের আরও রিল্যাক্সড, ফোকাসড এবং কর্মক্ষম করে তোলা।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এরিকা লাস্ট জানিয়েছেন, ২০২১ সালে কোভিড পরিস্থিতি যখন জীবনকে থমকে দিয়েছিল, তখন তিনি এবং তাঁর টিম খিটখিটে স্বভাবের শিকার হচ্ছিলেন, একাগ্রতা কমে গিয়েছিল, উদ্বেগ বেড়েছিল। এই চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজতে গিয়েই উঠে আসে এই ভাবনা।
একটি ব্লগপোস্টে তিনি লিখেছেন—
“স্বমেহন এক প্রাকৃতিক উপায় যা দেহে অক্সিটোসিন, ডোপামিনের মতো হরমোন নিঃসরণ করে। ফলে মন ভালো থাকে, স্ট্রেস কমে এবং একাগ্রতা ফিরে আসে।”
স্থায়ী উদ্যোগে রূপান্তর
শুরুর দিকে এটি এক মাসের পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট ছিল। কিন্তু কর্মীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে, সংস্থাটি একে স্থায়ী ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করে। এমনকি একটি “স্বমেহন রুম”-ও তৈরি করা হয় অফিস চত্বরে, যেখানে কর্মীরা পালা করে গিয়ে সময় কাটাতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, এটি আধুনিক ও সাহসী পদক্ষেপ, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন অফিস সংস্কৃতি ও নৈতিকতা নিয়ে। তবে মনোবিজ্ঞানীরা একে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন, বিশেষ করে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ক্ষেত্রে।
আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায় কাজের চাপে মানুষ প্রায়শই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন। এমন এক বাস্তবতায়, সুইডেনের এরিকা লাস্ট ফিল্মস প্রমাণ করে দিয়েছে— অভিনব চিন্তাভাবনা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন যদি একসঙ্গে চলে, তাহলে কর্মী এবং সংস্থা— উভয়ের উন্নতিই নিশ্চিত।