কেরলের রাজনীতি ও ভারতের বামপন্থী আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য নাম ভি এস অচ্যুতানন্দন। দীর্ঘ ১০১ বছরের জীবন সংগ্রামের শেষে সোমবার প্রয়াত হলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। শতবর্ষ পেরিয়ে তাঁর এই প্রয়াণ এক রাজনৈতিক যুগের অবসান বলেই মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট মহল।
ভি এস অচ্যুতানন্দন শুধু কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক জনতার নেতা, যিনি গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন লাল আন্দোলনের কিংবদন্তি রূপে। ১৯২৩ সালের ২৩ অক্টোবর আলাপুঝার পুন্নপ্রাতে জন্ম। বাবা-মা দু’জনকেই অল্প বয়সে হারান। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪০ সালে সিপিআই সদস্য হন, এরপর ১৯৬৪ সালে সিপিআই(এম)-এর প্রতিষ্ঠার অন্যতম নেতৃত্ব দেন।
ভিএস ছিলেন সেই ৩২ জন নেতা-নেত্রীর মধ্যে শেষ জীবিত সদস্য, যাঁরা কলকাতায় অনুষ্ঠিত সিপিআই-এর ন্যাশন্যাল কাউন্সিল সভা থেকে বেরিয়ে নতুন দলের সূচনা করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৫ সালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে। যদিও প্রথমবার জয় আসেনি, এরপর একে একে দশবার নির্বাচনে লড়েছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিনি কেরলের বিরোধী নেতা এবং ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন।
কেরলের পুন্নাপ্রা-ভায়লারের কৃষক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কৃষক-শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় তিনি ছিলেন এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিকে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য থাকলেও, জনমানসে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বরাবর অটুট ছিল।
ভিএস-এর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “ভিএস আমাদের কাছে এক রূপকথার চরিত্র। পুন্নাপ্রা-ভায়লার থেকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব—প্রতিটি অধ্যায়ই শিক্ষণীয়।”
কমরেড ভিএস-এর জীবন কেবল এক রাজনৈতিক জীবন নয়, এক আদর্শের যাত্রা, এক আত্মত্যাগের প্রতীক। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
লাল সেলাম, কমরেড ভিএস অচ্যুতানন্দন।