পুণে শহরের এক হাসপাতালে ঘটল হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্বামীকে বাঁচাতে সাহসী পদক্ষেপ নেন স্ত্রী। নিজের লিভারের একটি অংশ দান করেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বামী অস্ত্রোপচারের পরেই মারা যান। কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন স্ত্রীও। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও স্থানীয় মহলে। পাশাপাশি উঠেছে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ।
ঘটনার বিবরণ
মৃত ব্যক্তির নাম বাপু কোমকার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা লিভার প্রতিস্থাপনকে একমাত্র সমাধান হিসেবে জানান। তখনই তাঁর স্ত্রী কামিনী কোমকার স্বেচ্ছায় নিজের লিভারের একটি অংশ দান করার সিদ্ধান্ত নেন। স্বাধীনতা দিবসের দিন বাপুর লিভার প্রতিস্থাপন হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং শেষমেশ ১৭ আগস্ট মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, স্বামীকে হারানোর মাত্র চার দিনের মধ্যেই ২১ আগস্ট গুরুতর সংক্রমণের শিকার হন কামিনী কোমকার। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। একে একে দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ভেঙে পড়েছে।
চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ
কোমকার পরিবার অভিযোগ করেছে, এই ঘটনার পেছনে চিকিৎসকদের অবহেলা রয়েছে। তাদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হয়নি। তাই হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সরকারের ভূমিকা
অভিযোগের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সোমবারের মধ্যে পুরো চিকিৎসার নথি জমা দিতে হবে।
হাসপাতালের বক্তব্য
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই অপূরণীয় ক্ষতিতে শোকাহত। তবে তাদের দাবি, রোগীর শারীরিক জটিলতা ছিল এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেই ঝুঁকির কথা আগেই পরিবারকে জানানো হয়েছিল। আরও দাবি করা হয়েছে, লিভার দানের পর কামিনী সুস্থ ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁর শরীরে সেপটিক শক হয়, যার ফলে অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে।
স্বামীকে বাঁচাতে যে আত্মত্যাগ কামিনী কোমকার করেছিলেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এই দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু লিভার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার ঝুঁকি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর রয়েছে তদন্তের ফলাফলের দিকে।