ব্রেকিং
  • Home /
  • কলকাতা /
  • ঐতিহাসিক ঘোষণা স্বাস্থ্য দফতরের! এবার বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে ‘ফ্রি বেড’, কলকাতার ১৭ নামী হাসপাতালে সংরক্ষিত ৬৬০ শয্যা

ঐতিহাসিক ঘোষণা স্বাস্থ্য দফতরের! এবার বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে ‘ফ্রি বেড’, কলকাতার ১৭ নামী হাসপাতালে সংরক্ষিত ৬৬০ শয্যা

অ্যাপোলো থেকে রুবি, ফোর্টিস থেকে নারায়ণা—সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হলেই মিলতে পারে চিকিৎসার সুযোগ; স্বাস্থ্য দফতরের সিদ্ধান্তে স্বস্তির হাওয়া সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। সরকারি হাসপাতালে বেড নেই? চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা? এবার সেই সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য....

ঐতিহাসিক ঘোষণা স্বাস্থ্য দফতরের! এবার বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে ‘ফ্রি বেড’, কলকাতার ১৭ নামী হাসপাতালে সংরক্ষিত ৬৬০ শয্যা

  • Home /
  • কলকাতা /
  • ঐতিহাসিক ঘোষণা স্বাস্থ্য দফতরের! এবার বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে ‘ফ্রি বেড’, কলকাতার ১৭ নামী হাসপাতালে সংরক্ষিত ৬৬০ শয্যা

অ্যাপোলো থেকে রুবি, ফোর্টিস থেকে নারায়ণা—সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হলেই মিলতে পারে চিকিৎসার সুযোগ; স্বাস্থ্য দফতরের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

অ্যাপোলো থেকে রুবি, ফোর্টিস থেকে নারায়ণা—সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হলেই মিলতে পারে চিকিৎসার সুযোগ; স্বাস্থ্য দফতরের সিদ্ধান্তে স্বস্তির হাওয়া

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

সরকারি হাসপাতালে বেড নেই? চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা? এবার সেই সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।

কলকাতার (Kolkata Health News) একাধিক নামী বেসরকারি হাসপাতালের দরজা এবার খুলতে চলেছে সাধারণ মানুষের জন্য। সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সম্প্রতি হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যেসব বেসরকারি হাসপাতাল অতীতে সরকারি সুবিধা বা সরকারি জমি পেয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রেই প্রথম ধাপে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য দফতরের হিসাব অনুযায়ী, কলকাতার ১৭টি বড় হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা ৬,৫৭৩। এর মধ্যে প্রায় ৬৬০টি বেড সরকারি হাসপাতাল থেকে পাঠানো রোগীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

 

তালিকায় রয়েছে শহরের একাধিক পরিচিত হাসপাতাল। যেমন অ্যাপোলো হাসপাতাল (Apollo Hospital Kolkata)-এ ৭৫টি, কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে (KPC Medical College) ১০৬টি, পিয়ারলেস হাসপাতালে (Peerless Hospital) ৬৭টি, নারায়ণা হাসপাতালে (Narayana Hospital) ৬৮টি, ডিসান হাসপাতালে (Desun Hospital) ৫১টি এবং মেডিকা-মনিপাল হাসপাতালে (Manipal Medica Hospital) ৫০টি বেড সংরক্ষিত রাখতে হবে।

 

এছাড়াও রুবি জেনারেল হাসপাতাল (Ruby General Hospital), ফোর্টিস হাসপাতাল (Fortis Hospital Kolkata), ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স (Institute of Neurosciences Kolkata), শ্রী অরবিন্দ সেবা কেন্দ্র (Sri Aurobindo Seva Kendra), বিপি পোদ্দার হাসপাতাল (BP Poddar Hospital) এবং ভাগীরথী নেওটিয়া উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার (Bhagirathi Neotia Women and Child Care)-এর মতো হাসপাতালগুলিও এই তালিকায় রয়েছে।

 

স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “সরকারি হাসপাতালের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীরা প্রয়োজনে এই সংরক্ষিত বেডে ভর্তি হতে পারবেন।”

 

তবে সূত্রের দাবি, তালিকাভুক্ত দুটি হাসপাতাল এখনও ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণের বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

 

শুধু কলকাতাতেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। স্বাস্থ্য ভবন ইতিমধ্যেই জেলার বেসরকারি নার্সিংহোম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী পর্যায়ে জেলার হাসপাতালগুলিতেও একই মডেল চালু করার চেষ্টা করা হবে।

 

সোমবার বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের। সেখানে এই নীতির আওতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

 

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হল, সংরক্ষিত বেডে সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালকে আর্থিক সহায়তাও দেবে রাজ্য সরকার। ফলে হাসপাতালগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না বলেই মনে করছে প্রশাসন।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতালের বেড সংকট অনেকটাই কমতে পারে। বিশেষ করে জটিল রোগ, অস্ত্রোপচার বা জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

তবে এখন নজর একটাই—কবে থেকে পুরোপুরি চালু হবে এই ব্যবস্থা? কারণ কাগজে-কলমে ৬৬০টি বেড সংরক্ষণের ঘোষণা যতটা বড়, বাস্তবে তার সুফল কত দ্রুত রোগীদের কাছে পৌঁছায়, সেটাই দেখার।

হাজার হাজার রোগী ও তাঁদের পরিবারের এখন একটাই প্রশ্ন—সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হলেই কি এবার সত্যিই খুলে যাবে শহরের নামী বেসরকারি হাসপাতালের দরজা?

আজকের খবর