Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে কারা যোগ্য? স্পষ্ট জানালেন শুভেন্দু অধিকারী
কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এলে প্রতি মাসে বাংলার মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে ভাতা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছিল দলীয় সংকল্প পত্রে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলার প্রায় 79 লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পে ভাতা পেতে শুরু করেছেন।
কিন্তু তারপরেও অনেকেই আশঙ্কায় রয়েছেন অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে আবেদন করলে সেই আবেদন গ্রাহ্য হবে কিনা অথবা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে এতদিন তারা টাকা পেয়ে আসলেও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধে তারা পাবেন কিনা। (Annapurna Yojana Eligibility)
সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া থেকে রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বাংলার মানুষের কাছে গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”আজ সকালের হিসাব ৭৯ লক্ষ মা-বোনেদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের টাকা পড়েছে। স্বচ্ছতার কারণেই এত বড় ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। আপনারা সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। আগের সরকারের আমলে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। কয়েক লক্ষ পুরুষের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকার শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের।” (Annapurna Yojana Beneficiaries)
যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁরা-সহ নতুন করে যাতা টাকা পেতে চান, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হচ্ছে। অনলাইনে ও অফলাইনে ফর্ম জমা করা যাচ্ছে। ৩ জুন থেকে টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সোমবার সকাল পর্যন্ত ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম ফিলআপ করতে হচ্ছে। তাতে পারিবারিক তথ্য লিখতে হচ্ছে। এনিয়ে মহিলাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা রাখতেই পারিবারিক তথ্য় চাইছে সরকার। যাতে কোনও দুর্নীতি বা অনিয়ম না হয়। ফর্ম জমা করা নিয়েও তিনি বড় কথা বলেছেন। নন্দীগ্রামে জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপে কোনও সমস্যা হলে সরকার সহযোগিতা করবে।

ভারতীয় নাগরিক কোন কোন মহিলারা এই অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধে পাবেন না সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে শুভেন্দু অধিকারী আজ প্রশ্ন তোলেন,
“আপনারা চাইবেন না বাংলাদেশিরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পান, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা পান। যারা সন্তানদের ভ্যাকসিন দেন না, সরকারি স্কুলে, সরকারি অনুমোদিত স্কুলে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করেন না। তাঁরা কেন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। যারা এমন জায়গায় ছেলে মেয়েদের ভর্তি করান যেখানে বন্দে মাতরম, জাতীয় সংগীত গাইতে অসুবিধা হয়। তারা কেন সরকারি সুযোগ সুবিধা পাবে। ফর্ম নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। দরকারে ফর্ম ফিলআপ করাতে বাড়িতে পাঠাব কর্মচারীদের, সহযোগীদের। যাতে পোর্টালে আপলোড করা, ফর্ম ভরা ঠিকঠাক করা যায়।”