রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
শনিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটল এক রোমহর্ষক কাণ্ড। পুলিশের দাবি, এক তীব্র ঝগড়ার জেরেই প্রতিমা দাস নামে এক মহিলা রান্নাঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে তাঁর ১২ বছরের লিভ-ইন সঙ্গী শ্যামল দাসের চোখে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শ্যামলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর প্রতিমাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
দীর্ঘ ১২ বছরের সম্পর্কে ফাটল
প্রতিবেশীদের কথায়, ১২ বছর ধরে প্রতিমা ও শ্যামল একই ছাদের নিচে স্বামী-স্ত্রীর মতোই বসবাস করতেন। তবে তাঁদের মধ্যে কোনও বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না। স্থানীয়রা তাঁদের দম্পতি হিসেবেই চিনতেন। কিন্তু সম্প্রতি শ্যামলের জীবনে আসেন অন্য এক মহিলা। সেই সম্পর্ক টের পাওয়ার পর থেকেই প্রতিমা ও শ্যামলের মধ্যে নিত্য অশান্তি শুরু হয়।
মারাত্মক রাতের ঝগড়া
শনিবার রাতেও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। শ্যামলের অভিযোগ,
“রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে এসে আমার চোখে মেরেছে ও।”
প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, শ্যামল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রতিমার দাবি—”প্রেমে প্রতারণা সহ্য হয়নি”
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিমা জানায়, শ্যামলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু সম্প্রতি শ্যামল অন্য এক মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এই বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নিতে পারেননি তিনি। তাঁর দাবি,
“ওই সম্পর্কই আমার সমস্ত কষ্টের কারণ। আমি শুধু চেয়েছিলাম ওকে থামাতে।”
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ
শ্যামল হাসপাতালে শুয়েই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিবার সকালে প্রতিমা দাসকে গ্রেফতার করে সোনারপুর থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ধৃতকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলার প্রস্তুতিও চলছে।
প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেশীদের একাংশ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দম্পতির অশান্তি চলছিল। তবে এমন ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। তাঁদের কথায়—
“১২ বছর ধরে একসঙ্গে থাকার পর সম্পর্কের এমন রক্তাক্ত সমাপ্তি আমাদেরও হতবাক করে দিয়েছে।”

এলাকায় চাঞ্চল্য
ঘটনার পর রাজপুর-সোনারপুর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ অবাক যে, এক দীর্ঘ সম্পর্ক কেবল অন্য এক মহিলার আগমনের কারণে এতটা হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাটিকে প্রেমঘটিত অপরাধ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে।
রক্তাক্ত প্রেমের পরিণতি
এখনো হাসপাতালে শ্যামল চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চোখে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। এদিকে প্রতিমার ভবিষ্যৎও এখন আদালতের রায়েই নির্ভর করছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ঝড়। অনেকে লিখেছেন—
“১২ বছরের সম্পর্ক কি এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়?”
আবার কেউ কেউ বলেছেন—
“প্রতারণার যন্ত্রণা অনেক সময় মানুষকে ভয়াবহ পথে ঠেলে দেয়।”

Sonarpur live-in partner attack শুধুমাত্র এক দম্পতির ব্যক্তিগত বিবাদের ঘটনা নয়, বরং এটি সমাজকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। দীর্ঘ সম্পর্কও যদি বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে যায়, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। বর্তমানে প্রতিমা দাস পুলিশের হেফাজতে এবং শ্যামল দাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের তদন্তেই প্রকাশ পাবে, আসল সত্যি কতটা লুকিয়ে আছে এই রক্তাক্ত প্রেমকাহিনির আড়ালে।