শিবরাত্রির অর্থ হল শিবের রাত্রি। এদিন পার্বতীর সঙ্গে মহাদেবের বিয়ে হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহাশিবরাত্রি পালিত হয়।
”আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে” দেশজুড়ে পালিত হবে মহাশিবরাত্রি। এই ধর্মীয় উৎসব অত্যন্ত জনপ্রিয়। এক বছরে পালিত ১২টি শিবরাত্রির মধ্যে মহাশিবরাত্রির গুরুত্ব সর্বাধিক। পুরাণ অনুযায়ী এদিন থেকেই মহাদেবের থেকে বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হয়।
শিবরাত্রির অর্থ হল শিবের রাত্রি। এদিন পার্বতীর সঙ্গে মহাদেবের বিয়ে হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহাশিবরাত্রি পালিত হয়। শিবরাত্রির ব্রতকথা অনুযায়ী, এদিন এক শিকারি বনের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে শিকার না পেয়ে একটি বেলগাছের ডালে আশ্রয় নেয়। গাছের পাতা ছিঁড়ে নীচে ফেলতে থাকে সে। নীচে সেখানে একটি শিবলিঙ্গ ছিল। বেলপাতা পড়ায় খুশি হয়ে মহাদেব তকে আশীর্বাদ করেন।
কালকূট কথা অনুযায়ী, এদিনই দেবতা ও রাক্ষসদের সমুদ্র মন্থনের ফলে ভয়ানক কালকূট বিষ উঠে আসে। সেই বিষের জ্বালায় ছটফট করতে থাকে গোটা বিশ্ব। সৃষ্টি রক্ষা করতে মহাদেব সেই বিষ নিজের কণ্ঠে ধারণ করেন। বিষে তাঁর কণ্ঠ নীল হয়ে যায়, তাই তাঁর আর এক নাম নীলকণ্ঠ।
বাঙালী মেয়ের প্রথম শাড়ী সরস্বতী পূজোয় আর প্রথম ব্রত শিবরাত্রিতে। মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় । স্কন্ধ, পদ্ম এবং লিঙ্গ পুরাণে এই শিবরাত্রির মাহাত্ম্য নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে।শিবরাত্রির উৎস নিয়ে বিভিন্ন পৌরাণিক গল্প প্রচলিত আছে। শিবমহাপুরাণ অনুসারে, অতি প্রাচীনকালে বারাণসী তথা কাশীধামে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত।
একদিন শিকারে বেরিয়ে তার খুব দেরী হওয়ার ফলে সে জঙ্গলে পথ হারিয়ে রাতে এক হীংস্র জন্তুর ভয়ে এক গাছের উপর আশ্রয় নেয় । কোনো শিকার না পেয়ে সে হতাশ হয়ে গাছ থেকে একটা করে পাতা ছিঁড়ে নীচে ফেলতে থাকে । সেই গাছটি ছিল বেলগাছ । আর সেই বেলগাছের নীচে একটি শিবলিঙ্গ ছিল। সেদিন ছিল শিবচতুর্দশী অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। আর ব্যাধও ছিল উপবাসী। তার ফেলা বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের মাথায় পড়ে এর ফলে তার শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয় তার অজান্তেই। পরদিন ব্যাধ বাড়ি ফিরে এলে তার খাবার সে এক অতিথিকে দিয়ে দেয়।
এতে তার ব্রতের পারণ ফল লাভ হয়।এর কিছুদিন পরে সেই ব্যাধ মারা গেলে যমদূতরা তাকে নিতে আসে। কিন্তু শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হেতু শিবদূতরা এসে যুদ্ধ করে যমদূতদের হারিয়ে ব্যাধকে নিয়ে যায়। যমরাজ তখন স্বীকার করেন যে শিবচতুর্দশী ব্রত পালন করে তার উপর যমের কোনো অধিকার থাকেনা। সে মুক্তিলাভ করে।
এইভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে। আবার একটি উপাখ্যান অনুসারে মহাদেব শিব যখন তার ত্রিনয়ন বোজান, তখন সারা পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসে আর সেই অন্ধকার দূর করতে ভক্তদের শিবরাত্রি পালন করতে হয় শিবের আরাধনা করে।
তবে শিবরাত্রির উৎস সম্পর্কে সবচেয়ে প্রচলিত যে দুটি পৌরাণিক গল্প তাদের মধ্যে একটি হল সমুদ্র মন্থনে ওঠা বিষ শিব নিজের কণ্ঠে রেখে মানব্জাতিকে সেই বিষের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে।
শিবরাত্রি হল মানুষের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন মহাদেবের প্রতি তার বিষপান করে মানবজাতিকে রক্ষা করার কথা মনে রেখে।আর অন্যটি হল ব্রহ্মা বিষ্ণুর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই তে শিবের জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে আবির্ভাব ও সেই লড়াই এ মধ্যস্থতা করাকে স্মরণ করে শিবরাত্রি পালন করা হয়। আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম ১৮৮৪ সালে তার গ্রন্থে বর্ণনা করে গেছেন কিভাবে মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোতে এই শিবরাত্রির দিন ঘটা করে শিব- পার্বতীর বিবাহ উৎসব পালন করা হয়।
বিবাহিত হিন্দু নারীরা এইদিন শিবচতুর্দশী ব্রতের পালনের মাধ্যমে স্বামীর আয়ুবৃদ্ধি কামনা করে ও অবিবাহিত নারীরা শিবের মত স্বামী কামনা করে।