বাংলার দুর্গাপুরে (Durgapur medical student case) এক ডাক্তারি ছাত্রী যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার পরই বিজেপি নেতৃত্ব রাস্তায় নেমে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। কিন্তু রাজধানী দিল্লির South Asian University (Delhi South Asian University gangrape attempt) ক্যাম্পাসেই ঘটেছে আরও ভয়াবহ এক ঘটনা — ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের মধ্যেই গণধর্ষণের চেষ্টা!
বিরোধী দল হিসেবে বাংলায় নৈতিকতার বুলি আওড়ানো বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা যখন ক্যামেরার সামনে ‘নারী সুরক্ষা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তখন একই সময়ে তাঁদের শাসিত রাজধানী দিল্লিতে (Delhi crime against women) ঘটছে একের পর এক যৌন হেনস্থার ঘটনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই গণধর্ষণের চেষ্টা!
সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি — সার্কভুক্ত ৮টি দেশের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম থেকে ক্যান্টিনে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে জাপটে ধরে চারজন ব্যক্তি। তার পোশাক ছিঁড়ে দেয়, এবং জোর করে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের চেষ্টা (Gangrape attempt inside South Asian University campus) করে।
অভিযুক্তদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মচারী, যিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ (Ministry of Education under BJP government)। ওই মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী আবার বাংলার প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)।
ছাত্রীটির এক বন্ধু পিসিআর নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানায়। এরপর এফআইআর দায়ের হলেও, ঘটনার দুই দিন পার হলেও গ্রেফতার করেনি দিল্লি পুলিশ (Delhi Police inaction) — যা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন।
তদন্তে সিসিটিভি, কিন্তু গ্রেফতার শূন্য
দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP South Delhi) জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে ছাত্রীটির ওপর হামলা ও পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার দৃশ্য।
তবু, আজও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়নি (No arrests in Delhi University gangrape case)।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নেই। তারা কেবল জানিয়েছে যে “তদন্তে সহযোগিতা করা হচ্ছে।”
ফলত, ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে পুরো ক্যাম্পাস (Student protest in Delhi university rape attempt)।
নীরব বিজেপি ও নিখোঁজ মহিলা কমিশন
দুর্গাপুর কাণ্ডে বিজেপি নেত্রীরা যেমন সঙ্গে সঙ্গে চার্টার্ড ফ্লাইটে ছুটে এসেছিলেন, তেমনই দিল্লির এই ভয়াবহ ঘটনায় (Delhi sexual assault case) কেউ মুখ খোলেননি।
জাতীয় মহিলা কমিশন (National Commission for Women) থেকেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিনিধি পৌঁছাননি ঘটনাস্থলে।
অবাক করার মতোভাবে, যেখানে বাংলার একটি বেসরকারি কলেজে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, সেখানে রাজধানীতে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ (BJP double engine government) নীরব।
রাজনৈতিক দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন
বাম, তৃণমূলসহ বিরোধী মহল বলছে, “বিজেপি দুর্গাপুরে কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দিলেও দিল্লির বুকে নারী নির্যাতনে চুপ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নীরবতা প্রমাণ করে বিজেপির নারী নিরাপত্তা নিয়ে ‘দ্বিচারিতা (BJP hypocrisy on women safety)’।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta) দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপে মোদির ছবি থাকবে কি না তা নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু রাজধানীর বুকে ছাত্রীর ওপর যৌন হেনস্থার ঘটনায় কোনও মন্তব্যই করেননি।
দেশের রাজধানীতে নারী নিরাপত্তা প্রশ্নে চরম ব্যর্থতা
একই মাসে দিল্লির আদর্শ নগরে এক এমবিবিএস ছাত্রী ধর্ষণের (Delhi MBBS student rape) ঘটনাও ঘটেছে।
হরিয়ানার বাসিন্দা ওই ছাত্রী রাজধানীর এক প্রতিষ্ঠানে পড়তেন।
তার পরপরই সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ঘটে গেল এই বিভীষিকা।
দিল্লির বুকে (Crimes against women in Delhi) নারী নিরাপত্তা যে বিপন্ন, তা বারবার প্রমাণ করছে একের পর এক ঘটনা। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটিও জনসমক্ষে মন্তব্য করেননি।
একদিকে দুর্গাপুরের ঘটনায় দ্রুত গ্রেফতার ও তদন্তের প্রশংসা হচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে গণধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় প্রশাসনিক নীরবতা গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
“বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন যারা, তাঁদের নিজের রাজধানী শহরে ছাত্রীরা নিরাপদ নয়,” — এই বক্তব্য এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ভারতের রাজধানীতে (Delhi rape attempt under BJP rule) এমন ঘটনায় সরকারের নীরবতা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, নারী নিরাপত্তা বিষয়ে রাজনৈতিক ভণ্ডামির স্পষ্ট প্রমাণ।