সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বিরল স্নায়ু রোগে আক্রান্ত ছোট্ট অস্মিকাকে সুস্থ করতে এ বার এগিয়ে এলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত অস্মিকা দাসের চিকিৎসায় সাহায্যের আশ্বাস দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কয়েকদিন আগেই এই বিরল স্নায়ু রোগ বা স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যট্রফ্রি টাইপ-১ আক্রান্ত সোনারপুরের বাসিন্দা ৯ মাস বয়সী হৃদিকা দাসের পরিবারের পক্ষ থেকেও চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন ছোট্ট হৃদিকা দাসের মা হৈমন্তী দাস।
স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রফ্রি টাইপ-১ আক্রান্ত ৯ মাসের হৃদিকা দাসের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে যদিও অভিষেকের তরফে এখনো সাহায্যের আশায় দিন গুনছেন তার মা হৈমন্তী দাস।

এবারে অভিষেকের শরনাপন্ন হলেন নদিয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা অস্মিকা দাসের পরিবার। চিকিৎসায় সাহায্যের প্রত্যাশাতেই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আয়োজিত সেবাশ্রয় শিবিরে বুধবার অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে যান অস্মিকার বাবা-মা শুভঙ্কর দাস ও লক্ষ্মী দাস।

এক বছরের অস্মিকা বিরল স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যট্রফ্রি টাইপ-১ রোগে আক্রান্ত। এটি এক ধরনের নিউরো-মাস্কুলার ডিসঅর্ডার বা স্নায়ু-পেশির রোগ। এর জেরে ফুটফুটে ছোট্ট মেয়েটি কোনও দিন হাঁটাচলা করতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। শুধু তাই নয়, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে হয়তো চিরতরে উঠে বসার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলবে অস্মিকা। বিরল এই রোগের চিকিৎসার জন্য দরকার ১৬ কোটি টাকার একটি ইঞ্জেকশন। নিজের সংসদীয় এলাকার বাসিন্দাদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সেবাশ্রয় শিবিরের আয়োজন করেছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে অস্মিকার পরিবার। ইতিমধ্যেই শিবিরের ৬১ দিন পার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বুধবার অস্মিকার বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাহায্যের আশ্বাসও দেন তিনি। এ বিষয়ে অস্মিকার বাবা বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের যোগাযোগের নম্বরও নেন। এ বিষয়ে কী করা যায় তিনি দেখছেন বলে জানিয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, ২ জানুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরে ৮.৮৮ লক্ষেরও বেশি মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের ছয়টি বিধানসভা এলাকায় এই স্বাস্থ্য শিবির পরিচালিত হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগ পেয়েছেন। মোট ৬৫৮ টি ক্রিটিক্যাল কেস উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। শুধু বজবজেই এক লক্ষের বেশি মানুষের বিভিন্ন রোগের টেস্ট হয়েছে সেবাশ্রয় শিবিরে।

রাজ্যে এত দীর্ঘ সময় ধরে স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন আগে কখনও হয়নি, ফলে এটি এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন যে টানা দুই মাস ধরে এই শিবির পরিচালনা করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল, তবে তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ বিশেষত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।