সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘আপনারা ফিরে আসুন আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দেবো।’ এভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ত্যাগ করা বিধায়ক ও সাংসদদের উদ্দেশ্যে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষুব্ধ যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁরা ফিরে এলে এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি ইস্তফা দেবেন। এ দিন এভাবেই দলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে যখন সমস্যা তখন বিদ্রোহী নেতানেত্রীরা ফিরে এলে পদ ছেড়ে দিতে আপত্তি নেই তাঁর। একই সঙ্গে অবশ্য অভিষেক দাবি করেছেন, তাঁর এই প্রস্তাবে কোনও বিক্ষুব্ধই সাড়া দেবেন না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যই বিজেপি-র সঙ্গে ডিল হয়েছে বিদ্রোহী নেতাদের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে যাঁরা বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ নেতাই দল ছাড়ার কারণ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েই অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। দলের মধ্যে অভিষেকের ক্ষমতাসীন হয়ে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের জন্য অভিষেক এবং আইপ্যাক-কেই দায়ী করেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারা। এমন কি, এখনও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলে যাঁরা রয়েছেন সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারাও তৃণমূলের এই অবস্থার জন্য নাম না করে অভিষেককেই দায়ী করেছেন।
এ দিন কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হারের দায়িত্ব যদি আমার হয় তাহলে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ২৯ আসনে জয়ের কৃতিত্বও আমার হওয়া উচিত। আমাকে নিয়ে তো সমস্যা? আজকে ১৮ তারিখ, আপনি (বিদ্রোহীরা) যবে খুশি আসুন। আপনারা ফিরে আসুন আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দেবো। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘৬০ জন এমএলএ গেছে, কিছু মানুষ গেছে, ২০ জন এমপি গেছে। আপনারা এটাই বলছেন তো যে অভিষেক ব্যানার্জী ছেড়ে দিলে আপনারা সবাই চলে আসবেন? আমি মমতা ব্যানার্জীর সামনে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আপনারা দলে ফিরে আসুন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমি নিজের ইস্তফা দিয়ে দেব। আপনারা ৩টের সময় আসুন, আমি ৪টের সময় পদ ছেড়ে দিচ্ছি। কেউ আসবে না, কারণ ওনাদের আসল উদ্দেশ্য বাঁচা, দল করা নয়।’
অফিসে বুলডোজার চালানো প্রসঙ্গে
ডায়মন্ড হারবার এর তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলায় যে সাংসদ কার্যালয় ছিল সেটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে আজ বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
বুলডোজার চালানোর সময় কোন রকম বাধা না দিলেও বিকেলে কালিঘাটে দাঁড়িয়ে অভিষেক একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙা হচ্ছে বলে আজ যাঁরা আনন্দে মেতে উঠেছেন এবং এটাকে অবৈধ বলছেন, তাঁরা আদতে এর সপক্ষে কোনও প্রমাণই দেখাতে পারেননি। ঠিক কীসের ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, তার একটি কপিও জেলা প্রশাসন আমাদের হাতে তুলে দিতে পারেনি। যাঁরা আজ অতিসক্রিয় হয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙছেন, তাঁরা দয়া করে মনে রাখবেন – আজ যে ধারা ও যে আইনের দোহাই দিয়ে আমাদের কার্যালয় ভাঙা হল, ভবিষ্যতে যদি রাজ্যে সরকার পাল্টায়, তবে ঠিক একই আইনের কোপে পড়ে বিজেপির কোনও পার্টি অফিসও আর বাংলায় থাকবে না!

যে ধারায় আজ বুলডোজার চলল, একই আইনে সেদিন বিজেপির কার্যালয়গুলিও ভাঙা হবে। ভিডিওতে যাদের যাদের মুখ দেখা গেছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না, কেউ বাঁচবে না। আইনের হাত অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। কেউ যদি ভেবে থাকেন যে পিছন থেকে বিজেপির নেতারা এসে তাঁদের বাঁচিয়ে দেবে, সেটা হবে না।’