সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
আজ সোমবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে ঐতিহাসিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিল। সোমবার বিধানসভায় তিনটি বিল পেশ করতে চলেছে বিজেপি সরকার। এই বিল আইনে পরিণত হলে, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে পারবে প্রশাসন।
পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ না হতে পারে । রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই দুর্নীতি-তোলাবাজি রুখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভাতেও নতুন বিল আনতে চলেছে তারা। সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে আনা হচ্ছে ‘পশ্চিমবঙ্গ জন নিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’। পাশাপাশি জানা গিয়েছে বিজেপির নির্বাচনের সংকল্প পত্র মেনে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়েও বিল পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। তবে তার জন্য আরো অপেক্ষা করতে চায় সরকার।
গত বৃহস্পতিবার বিজনেস অ্যাডভাইসারি কমিটির বিশেষ বৈঠক বসে। সেখানেই ‘পশ্চিমবঙ্গ জন নিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিল আইনে পরিণত হলে, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা হাতে পাবে সরকার। সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা নষ্ট করলে, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে পারবে প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, সোমবার বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিলও পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। মুসলিম এবং খ্রিস্টান, দুই সম্প্রদায়েরই বর্তমানে, বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আলাদা আইন রয়েছে। ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষই চলে আসবে এক আইনের আওতায়।

তীব্র প্রতিবাদ সিপিএমের
সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) পেশ হওয়ার আগে সংবাদসংস্থার সাক্ষাৎকারে সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলায় সংখ্যার নিরিখে অন্যান্য ধর্মের তুলনায় হিন্দুদের মধ্যে বহু বিবাহের ঘটনা অনেক-অনেক বেশি।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কেন এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনা হচ্ছে? পশ্চিমবঙ্গে কি এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এখন একটাই সমস্যা আছে? তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক বহু পুরনো। আর বাঙালির সংস্কৃতির বিষয়ে না জেনেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মস্তিষ্কপ্রসূত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিকাশ। সিপিআইএম নেতার কথায়, ‘বাংলায় হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যেকার ভালোবাসার বিষয়টি অনেক পুরনো। আমি এমন অনেক বিশিষ্ট মানুষের নাম বলতে পারি, যাঁরা অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে প্রেম করেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে বিয়ে করেছেন। কেন এখনই এটা আনা হচ্ছে? এখনই কি এটার দরকার আছে? বাংলাকে এখন কি শুধুই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে?’
অন্যদিকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সমর্থনে ব্যাট করে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিজেপির অবস্থান বহুদিনের এবং সুস্পষ্ট । এটি দলের নির্বাচনী ইস্তেহার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ – এখানে কোনও লুকোচুরি নেই, কোনও মুখোশের আড়ালও নেই।’