সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘খুব তাড়াতাড়ি কলকাতার ফুটপাত হকার মুক্ত হবে। সকলকে এটা বুঝতে হবে রাস্তা বা রেলস্টেশন ব্যবসা করার জায়গা নয়।’ শনিবার রাতে রাজ্য পুলিশ এবং রেলের যৌথ অপারেশনে পার্ক সার্কাস ষ্টেশন এবং সংলগ্ন অবৈধ দোকানদারদের উচ্ছেদের পরে এভাবেই রবিবার সকালে হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
কলকাতা পুরসভার তরফে এবার হকারমুক্ত ফুটপাথ করা হবে কীনা এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ফুটপাথ, রাস্তা, প্ল্যাটফর্ম এগুলো ব্যবসা করার জায়গা নয়, যে বসিয়েছেন যারা বসেছেন তারা বুঝবেন। চেঁচামেচি করে কোনও লাভ হবেনা। সাধারণ মানুষ ট্যাক্স দেন চলাফেরা করার জন্য। দোকানের জন্য ট্যাক্স দেন। তার সামনে দখল করে ব্যবসা করছে। এই কাজকে বেশিদিন করা যাবে না।’ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রেল স্টেশনগুলিতে জবরদখল উচ্ছেদে জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম, পার্ক সার্কাস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বুলডোজার অভিযান চালিয়ে অবৈধ দোকান ও হকার সরানো হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ফুটপাত কার্যত হকারদের দখলে। ফলে পথচারীদের অনেক সময় বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে যানজটও বাড়ছে বলে অভিযোগ। বহু ক্ষেত্রে বৈধ দোকানদারদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, কারণ তাঁদের দোকানের সামনেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছে। এই প্রসঙ্গেই দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘যে দোকান, তাঁরা ট্যাক্স দেন। তার সামনে দোকান বসে গিয়েছে। এগুলো ঠিক নয়। ফুটপাত পাওয়া যায় না। কলকাতায় একেই ছোট রাস্তা, গাড়িঘোড়ার জ্যাম। তার উপর রিস্ক নিয়ে যদি রাস্তায় হাঁটতে হয়, এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। আর নিজেরা সরে গেলেই ভালো।’ যদিও সরকারিভাবে এখনও কলকাতা জুড়ে হকার উচ্ছেদ অভিযানের কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, শীঘ্রই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, ফুটপাত ও উড়ালপুলের নীচে বেআইনি দখলদারি সরাতে বৃহত্তর অভিযান শুরু হতে পারে।