মমতার দায়ের করা ভবানীপুর মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ, কোনও ফুটেজ মুছে ফেলা যাবে না বলল হাইকোর্ট
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
ভবানীপুর নির্বাচনে গণনা কেন্দ্রের যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজের সংরক্ষণের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছাড়া মুছে ফেলা যাবে না ওই ফুটেজ। ২০২৬-এ ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কেন্দ্র থেকেই ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা করেন মমতা। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মঙ্গলবার ছিল সেই মামলার শুনানি।
হাইকোর্টে মমতা ব্যানার্জির হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি। তিনি আর্জি জানান, গণনার ১২ দফা পর্যন্ত ঠিক ছিল। ১৩ দফার শুরু হতেই শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্টরা গণনা কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপরই অভাবনীয় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় । ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে যেতে শুরু করে। দুপুর তিনটে নাগাদ শুভেন্দু অধিকারী গণনা কেন্দ্রে এসে ঝামেলা পাকাতে বলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার সহযোগিতায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্টিং এজেন্টদের উপর আক্রমণ চালায় বিজেপির কাউন্টিং এজেন্টরা। সিসিটিভি, ভিভিপ্যাট সংরক্ষণ করা হোক। হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সময় দেওয়া হোক। কাউন্টিং সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হোক।
মঙ্গলবারের শুনানির শুরুর আগে বিচারপতি কান্ত মামলাকারীর উদ্দেশে বলেন, ”মামলার মেরিট বা শুনানিতে যাওয়ার আগে আমি একটা বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। আমার দাদা বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র। এ নিয়ে পরে যাতে কোনও সমস্যা না-হয়, তাই জানিয়ে রাখলাম। এতে কোনও সমস্যা আছে কি?” বিচারপতির আরও সংযোজন, ”এই বিষয়টি জানানো আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমি নিজের কর্তব্যবোধ থেকেই বলছি।’ বিচারপতির কথা শুনে কল্যাণ জানান, বিচারপতির প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কল্যাণের কথায়, ‘বিচারব্যবস্থার উপর আমার আস্থা এবং শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা আপনার কোর্টে মামলা করেছি। কখনও হেরেওছি। আপনি অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। এই পেশায় থেকে এক জন বিচারপতির প্রতি অবিশ্বাস করা আমার জন্য বিপদের।’ কল্যাণের মন্তব্যের পর মামলা শুরুর কথা জানান বিচারপতি কান্ত।
কল্যাণের দাবি, রিটানিং অফিসার এর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের সময় দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে নির্বাচনের দুই মাস আগে ওই কেন্দ্রে আনা হয়েছিল। তাঁকেই আবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সহযোগি সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।। বিষয়টি পক্ষপাতিত্ব দাবি করে আদালতের উপরই বিচারের ভার ছেড়ে দেন। এছাড়া কল্যাণ ব্যানার্জি উল্লেখ করেন, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিবই, ভোটের সময়ে মুখ্য নির্বাচনা আধিকারিক ছিলেন। সুব্রত গুপ্ত যাঁকে স্পেশাল রোল অবজারভার করা হয়েছিল, তাঁকেই নির্বাচনে পরে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য পরামর্শদাতা হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। এরপরই ওই কেন্দ্রের ইভিএম, ভিভিপ্যাট, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল কলকাতার উচ্চ আদালত।