ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • “চুরির অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নিন!” বিধানসভায় শুভেন্দুর দ্বারস্থ কুণাল, ঋতব্রতকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

“চুরির অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নিন!” বিধানসভায় শুভেন্দুর দ্বারস্থ কুণাল, ঋতব্রতকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি কুণালের, তথ্য-প্রমাণ দিলে পদক্ষেপের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু; উত্তপ্ত বিধানসভায় চরম নাটক শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন। রাজ্য বিধানসভার (West Bengal Assembly) অধিবেশন মঙ্গলবার এমন এক রাজনৈতিক নাটকের সাক্ষী থাকল, যা আগামী কয়েকদিন বঙ্গ রাজনীতির আলোচনার....

“চুরির অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নিন!” বিধানসভায় শুভেন্দুর দ্বারস্থ কুণাল, ঋতব্রতকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • “চুরির অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নিন!” বিধানসভায় শুভেন্দুর দ্বারস্থ কুণাল, ঋতব্রতকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি কুণালের, তথ্য-প্রমাণ দিলে পদক্ষেপের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু; উত্তপ্ত বিধানসভায় চরম....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি কুণালের, তথ্য-প্রমাণ দিলে পদক্ষেপের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু; উত্তপ্ত বিধানসভায় চরম নাটক

শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।

রাজ্য বিধানসভার (West Bengal Assembly) অধিবেশন মঙ্গলবার এমন এক রাজনৈতিক নাটকের সাক্ষী থাকল, যা আগামী কয়েকদিন বঙ্গ রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকতে পারে। একদিকে তৃণমূলের (Trinamool Congress) মমতা-ঘনিষ্ঠ শিবির, অন্যদিকে বিদ্রোহী বিধায়করা। আর সেই সংঘাতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কাছে সরাসরি তদন্তের আবেদন জানালেন বেলেঘাটার (Beleghata) বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

 

ঘটনার নাটকীয়তা এখানেই শেষ নয়। কুণালের বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই অধিবেশন কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, শুরু হয় পাল্টা স্লোগান, হইচই এবং তীব্র বাকযুদ্ধ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিনের ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিল।

 

রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিতে উঠে কুণাল ঘোষ সরাসরি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরকে নিশানা করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দাবি করেন, দলের ভিতরে যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিদ্রোহের পথ বেছে নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

 

কুণালের বক্তব্যের পরই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, যদি কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে তা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হোক। প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

 

এরপরই অধিবেশন কক্ষের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

নিজের বক্তব্যে কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। রাজ্যপালের ভাষণে নারী নিরাপত্তা এবং মহিলা সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো কতটা যুক্তিযুক্ত?

 

এই মন্তব্যের পরই বিজেপি (BJP) এবং বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ প্রবল আপত্তি জানাতে শুরু করেন। একযোগে বাধা, প্রতিবাদ এবং হইচইয়ে কয়েক মিনিটের জন্য কার্যত থমকে যায় কুণালের বক্তব্য।

 

কিন্তু থামার মানুষ নন কুণাল। তিনি স্পিকারের (Assembly Speaker) উদ্দেশে বলেন, যদি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্ত চলতে পারে, তাহলে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, জমি সংক্রান্ত অভিযোগ এবং আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গও।

 

বিরোধী বেঞ্চের বাধার মাঝেই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কুণাল বলেন, “আমাকে ভয় পান বলেই বলতে দিচ্ছেন না। নামটা মনে রাখবেন, কুণাল কুমার ঘোষ।”

 

এই মন্তব্যে শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরেই হাসির রোল পড়লেও রাজনৈতিক বার্তাটা ছিল স্পষ্ট। তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, বিতর্ক যতই থাকুক, রাজনীতির ময়দানে তিনি এখনও গুরুত্বপূর্ণ মুখ।

 

এরপর আরও একধাপ এগিয়ে বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তোলেন কুণাল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, নির্বাচনে হার-জিতও থাকবে, কিন্তু দল ছেড়ে অন্য পথে হাঁটা কর্মী-সমর্থকদের কাছে ভালো বার্তা দেয় না।

 

এই সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা খারাপ হতে পারি, আমরা হারতে পারি, কিন্তু আমরা বেইমান নই।”

 

অধিবেশনের অন্যতম নাটকীয় মুহূর্ত আসে যখন স্পিকার কুণাল ঘোষকে নিয়মের মধ্যে থাকার পরামর্শ দেন। স্পিকারের পর্যবেক্ষণে অসন্তোষ প্রকাশ করে কুণাল পাল্টা জবাব দেন। কয়েক মুহূর্তের জন্য অধিবেশন কক্ষে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। উপস্থিত বিধায়কদের অনেকেই এই বিরল বাকবিনিময়কে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

 

এদিকে বিরোধী বেঞ্চ থেকে ‘চোর’ স্লোগান উঠতেই কুণাল ফের পাল্টা আক্রমণে যান। তিনি নারদা (Narada Sting Case) প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। ফলে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

 

তবে শুধুই আক্রমণ নয়, নিজের বক্তব্যের শেষদিকে কুণাল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নতুন সরকারকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত। শুধুমাত্র বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করা তাঁর দলের লক্ষ্য নয়। জনস্বার্থের প্রশ্নে গঠনমূলক ভূমিকা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এদিনের অধিবেশন শুধু শাসক-বিরোধী সংঘাতের ছবি দেখায়নি, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তারও ইঙ্গিত দিয়েছে। একদিকে বিদ্রোহী শিবিরকে ঘিরে কুণালের আক্রমণ, অন্যদিকে তদন্তের প্রসঙ্গে শুভেন্দুর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।

এখন প্রশ্ন একটাই—বিধানসভার এই বিস্ফোরক বাকযুদ্ধ কি শুধুই রাজনৈতিক নাটক, নাকি এর জেরেই আগামী দিনে শুরু হতে চলেছে আরও বড় সংঘর্ষ?

 

আজকের খবর