শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“আমাদের অভিযোগ সত্যি বলে প্রমাণিত হলো। জাতীয় নির্বাচন কমিশন কে ধন্যবাদ যে তারা আমাদের অভিযোগ পাওয়ার পরে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বাংলার হিন্দু ভোটারদের নাম যাতে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ নেওয়া যায় তা দেখার জন্য।” এমন বিষ্ফোরক দাবি করে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের একটি নির্দেশিকা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগ। কাকদ্বীপ মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজারকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, অবৈধভাবে লগিং আইডি হ্যাক করে ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আধিকারিকের নাম অরুণ গোরাই।
গত কয়েক মাস ধরেই বাংলায় বিজেপির অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সরকার নিজের কর্মচারীদের দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। রীতিমতো পরিকল্পিতভাবেই সবটা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু যে হাওয়ায় অভিযোগ তুলেছিলেন এমন নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, অবৈধভাবে লগ ইন করে নাম সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে ভোটার তালিকায়। বিরোধী দলনেতার অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। এরপরই বড়সড় ‘পর্দাফাঁস’।
ঘটনার তদন্তে নেমে গতকালই নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজার অরুণ গড়াইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন বরখাস্ত করেছে। ইতিমধ্যেই নিজের দোষ স্বীকার করেছেন অরুণ গড়াই। নিজের ‘কীর্তির’ জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তদন্তে নেমে দেখা গিয়েছে গত ২৪ মার্চ কাকদ্বীপ ব্লকের এইআরও তথা যুগ্ম বিডিও স্বপন কুমার হালদারের লগ ইন আইডি ব্যবহার করে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ভোটার তালিকায় সংযোজন, বিয়োজনের ৩টি আবেদনের নিষ্পত্তি করেছেন। খবর জানাজানি হতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।
তদন্তে নেমে দেখা যায় অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শোকজ করেন জেলাশাসক। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমিশনের নির্দেশের কপি পোস্ট করে সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী ।
তিনি সাসপেন্সনের নির্দেশনামা এক্স-এ ভাগ করে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, কাকদ্বীপ মহকুমার সহকারী সিস্টেম ম্যানেজার অরুণ গড়াইকে তার গুরুতর অসদাচরণের জন্য বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। রাজ্যজুড়ে জেলা পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ইআরও, এইআরও, অন্যান্য কর্মকর্তাদের এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে বিস্ময়কর যোগসাজশের বিষয়টি আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়েছে, যারা সন্দেহাতীত হিন্দু ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন। কাকদ্বীপ মহকুমা বিভাগের সহকারী সিস্টেম ম্যানেজারের এই প্রতারণামূলক কাজ, যার ফলে লগইন শংসাপত্রগুলিতে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার এবং ভোটার ফর্ম নিষ্পত্তি করা হয়েছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন লঙ্ঘন করে এবং গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করে। আসুন আমরা প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করতে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অপকর্ম থেকে তাদের রক্ষা করতে সজাগ থাকি।”