শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
১৫ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে আদালতে অথবা তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আদালতের এই কঠোর নির্দেশের প্রেক্ষিতে আজ শনিবার আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন বাংলার কারা এবং ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা।
শনিবার কলকাতার বিচার ভবনে ইডি-র বিশেষ আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ইডি আগেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। তবে এদিন আদালত তাঁকে ব্যক্তিগত ১০ হাজার টাকার বন্ডে শর্তাধীন জামিন দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর।
প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন রাজ্যের কারা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। শনিবার কলকাতার বিচারভবনে ইডির বিশেষ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। ইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও আদালত আপাতত বীরভূমের বোলপুর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ককে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দিয়েছে। যদিও কিছু শর্ত মানতে হবে চন্দ্রনাথকে। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিল ইডি। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পর এই প্রথম আবার রাজ্যের কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হল। এর আগে ইডি চন্দ্রনাথের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেখান থেকে নগদ ৪১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকেরা। পরে দু’বার ইডির দফতরে হাজিরা এড়ান চন্দ্রনাথ। গত মাসে হঠাৎই তিনি আবার ইডির দফতরে হাজিরা দেন। তবে তখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তার আগেই ইডি চার্জশিট দিয়ে দিয়েছিল।
শনিবার আত্মসমর্পণ করে ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনের আবেদন জানান চন্দ্রনাথ। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। সাত দিনের হেফাজতে নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি আদালতে জানায় সাক্ষীদের প্রভাবিত করছেন চন্দ্রনাথ। এরপরই মন্ত্রীর আইনজীবী এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার আবেদন চেয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত জানায়, আগামী শুক্রবারের মধ্যে ইডি-র আবেদনের প্রেক্ষিতে জবাব দিতে হবে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর।
আদালত জানিয়েছে, জামিন পেলেও আপাতত নিজের বিধানসভা কেন্দ্র এবং কলকাতার বাইরে আর কোথাও যেতে পারবেন না মন্ত্রী। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। যত দিন এই সংক্রান্ত শুনানি শেষ না-হচ্ছে, তত দিন এই নিয়ম মানতে হবে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বোলপুরেই থাকতে হবে চন্দ্রনাথ সিনহাকে। ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানি।
ইডি সূত্রের দাবি চন্দ্রনাথ সিনহার অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ওই লেনদেনের রহস্য জানতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাই তাঁকে হেফাজতে নিয়েই এব্যাপারে জেরা করতে চায় ইডি। দীর্ঘদিন ধরে ইডির নজরে থাকা এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট আগেই জমা পড়েছিল, তবে রাজ্যপালের অনুমোদন না থাকায় তা আদালতে গৃহীত হয়নি। গত বুধবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বিচারপ্রক্রিয়া চালানোর অনুমতি দেন। এর পরেই ইডির বিশেষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রীকে হাজিরা দিতে হবে। ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণ করা বাধ্যতামূলক। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে বড়সড় বিপদে পড়তে পারেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রী নিজেই জানান, কাগজপত্র হাতে এলে আত্মসমর্পণ ও জামিনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবেন। সেই মতোই শনিবার ইডির আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি।
ইডির আইনজীবী ধীরাজ দ্বিবেদী বলেন, আমরা হেফাজতের জন্য দরখাস্ত করেছি। সাত দিনের জন্য ওঁকে হেফাজতে চেয়েছিলাম। আগামী ১৬ তারিখ তার শুনানি হবে। তাঁর মধ্যে উনি কলকাতা এবং নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না।
এদিকে, রাজ্যের কারামন্ত্রীর আদালতে আত্মসমর্পণ ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূলের যত বড় নেতা তত বড় অপরাধে যুক্ত। তৃণমূলে বেআইনি সম্পদের রমরমা। চন্দ্রনাথ সিনহাকে কে মন্ত্রী করেছে? তাকে যে মন্ত্রী করেছে সে কী টাকা নিয়েছিল? মদন মিত্রই তো বলে দিয়েছিলেন মন্ত্রীত্বের জন্য টাকা দিতে হয়। এই প্রশ্ন তো আসবেই। ইডি হেফাজতে নিলে আরও অনেক মাল-মশলা বেরিয়ে যাবে। সেই কারণেই হেফাজতে নিতে দেওয়া হচ্ছে না। চন্দ্রনাথ-সহ তৃণমূলের নেতারা নানা অপরাধে যুক্ত। ছেলেমেয়েদের জীবন ধ্বংস করার দায় অভিযুক্ত থাকবেন। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।