বাংলার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি ব্লকের কাবিলপুর গ্রামের ১৪ বছরের এক কিশোর বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নবম শ্রেণির ছাত্র জিশান শেখ প্রতিদিন অস্বাভাবিক পরিমাণ খাবার খেয়ে ফেলছে। এক দিনে প্রায় ৩ কেজি চালের ভাত বা একসঙ্গে ৩ ডজন রুটি খেয়ে ফেলে সে। শুধু ভাত বা রুটি নয়, প্রতিদিনের খাবারে মাছ, মাংস বা ডিম থাকা চাই-ই চাই। আর না থাকলে বাড়ি জুড়ে তৈরি হয় অশান্তি।
জিশানের বর্তমান ওজন দাঁড়িয়েছে ১৪০ কেজি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সে এক ধরনের rare disease child extreme hunger-এ ভুগছে। জন্মের সময় একেবারেই স্বাভাবিক ছিল জিশান, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ওজন এবং খিদের মাত্রা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ৯ বছর বয়স থেকেই ছেলেকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও তেমন কোনও ফল হয়নি।
তার বাবা মুনসাদ আলি, যিনি একটি কাঠ মিলে দিনমজুরের কাজ করেন, জানান –
“আমার সামান্য আয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর ছেলের খাবার জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা তো দূরের কথা, শুধু খাবার জোগাতে গিয়েই দিশেহারা আমরা।”
মায়ের অবস্থাও ভীষণ শোচনীয়। জিশানের মা পিয়ারুন বিবি কয়েক মাস আগে বাইপাস সার্জারি করেছেন। তিনি বলেন –
“আমি নিজে অসুস্থ। তারপরও ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের খাবার ছেড়ে দিই। কিন্তু জানি না কতদিন এভাবে চলতে পারব। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা যেন করা হয়।”
জিশান নিজে জানায়, তার সবচেয়ে পছন্দের খাবার হলো বিরিয়ানি। সে দাবি করে –
“আমি একসঙ্গে দুই কেজি চাল ও তিন কেজি মাংসের বিরিয়ানি খেয়ে ফেলতে পারি। প্রতিদিন আমাকে চারবার খাবার চাই।”
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, জিশানের খাবার কমাতে হবে এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। কিন্তু পরিবারের দাবি, ছেলেকে সীমিত খাবার দিলে সে অস্থির হয়ে ওঠে এবং বাড়ি রণক্ষেত্র বানিয়ে ফেলে।
এই অবস্থায় পরিবার পুরোপুরি অসহায়। মুনসাদ আলির সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে ছেলের চিকিৎসা ও অতিরিক্ত খাবারের খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
Rare Disease Child Extreme Hunger – বড় সমস্যা
বিশ্বজুড়ে এমন কয়েকটি রোগের নজির পাওয়া গেলেও তা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত হরমোনের অসামঞ্জস্য, জিনগত সমস্যা বা মেটাবলিজমের অস্বাভাবিকতার কারণে এ ধরনের rare disease child extreme hunger দেখা দেয়। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা ও ডায়েট কন্ট্রোল না হলে ভবিষ্যতে জিশানের অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।
সরকারের সাহায্যের আবেদন
পড়শি ও আত্মীয়-স্বজনরা বলছেন, সরকারের উদ্যোগ ছাড়া জিশানের চিকিৎসা সম্ভব নয়। পরিবার চায়, প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং এই শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়।