সুমনা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

 

‘যাঁদের সুবুদ্ধি আছে, তাঁরা ফিরে আসুন। আর যাঁরা ভাবছেন এই ভাবে চলবেন, তাঁরা কিন্তু না ঘর কা না ঘাট কা হয়ে থাকবেন।’ আগামী ২১ জুলাই তৃণমূলের বাৎসরিক শহীদ দিবসের আগে এভাবেই দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে লড়াইয়ের ময়দানে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই সচিত্র ভোটার পরিচয় পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, বর্তমানে রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক মামলা, গ্রেফতারি, চাকরি হারানো, হকার উচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে বলে দাবি করেন মমতা। মমতা বলেন, ‘নিচুতলার কর্মীদের রক্ত, ঘাম এবং আত্মত্যাগের উপরেই দলের ভিত দাঁড়িয়ে। বুথ স্তরের কর্মী থেকে শুরু করে গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন স্তরের সংগঠনের কর্মীরাই দলকে শক্তিশালী করেছেন। ওঁদের লড়াইয়ের কারণেই এঁরা আজ নেতা হয়েছেন।’

কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আজ তাঁদের জীবনের দামে, তাঁদের ত্যাগের দামে যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, বা বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা শুধু নিজেদের ও নিজেদের পরিবার বাঁচার জন্য নাম লেখাচ্ছেন অন্য দলে। বিশ্বাসঘাতকদের কোনও ক্ষমা নেই। আগামীদিন জনগণ কৈফয়ৎ চাইবে।’ এরপরই নাম না করে ঋতব্রতকে আক্রমণ করে বলেন, ‘বিজেপি স্পনসর্ড সিপিএমের নেতা। তবে সিপিএম একটা কাজ ভাল করেছিল। এটাকে বহিষ্কার করেছিল।’ নেতাদের শিবির বদল অন্য দিকে কর্মীদের উপর হামলা নিয়ে বক্তৃতায় সরব হয়ে মমতা উল্লেখ করেন তাঁর পরিবারের উপর ‘আক্রমণের’ কথাও। মমতা বলেন, ‘কেউ কেউ নিজেকে বাঁচাতে, পরিবার বাঁচাতে বেইমানি করেছে। মা আপনাকে মানুষ করল, আর আজ যখন মা অসুস্থ তখন তাকে দেখবেন না?’ তাঁর অভিযোগ, অনেকেই নিজেদের এবং পরিবারের স্বার্থ বাঁচাতে দল ছেড়েছেন। কেউ আইনি মামলার ভয়ে, কেউ সম্পত্তি রক্ষার চিন্তায় বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই ধরনের আচরণকে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেন। মমতার বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতকদের কোনও ক্ষমা নেই। আজ হয়তো তাঁরা নিজেদের বাঁচাতে পেরেছেন। কিন্তু আগামিদিনে জনগণ এবং দলের কর্মীরাই তাঁদের কাছে হিসাব চাইবে।’ তাঁর দাবি, যাঁরা দল না ছাড়লে বিজেপি এতটা দাপট দেখাতে পারত না। নিজেদের স্বার্থে তাঁরা কর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী।

যদিও এখনও যাঁদের মধ্যে অনুশোচনা রয়েছে, তাঁদের ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। মমতার বক্তব্য, ‘যাঁদের এখনও শুভবুদ্ধি রয়েছে, তাঁরা ফিরে আসুন। এখন যারা ভাবছেন পালিয়ে বাঁচবেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত কোথাও জায়গা পাবেন না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *