গোসাবার এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল থেকে শুরু করে মহিলাদের উপর নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সামনে আসছে বিস্ফোরক দাবি, যদিও অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
সুস্মিতা মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
সুন্দরবনের গোসাবা (Gosaba TMC Leader Jhoro Dhali) ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি, যিনি ঝোড়ো ঢালি নামেও পরিচিত। এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে মহিলাদের উপর নির্যাতন, শিশুদের ভয় দেখিয়ে মায়েদের ডেকে আনা এবং বিভিন্ন ধরনের অত্যাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ।
স্থানীয়দের বক্তব্য, একসময় সাধারণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সম্পত্তির বিস্তার ঘটে ওই নেতার। অভিযোগ, বিশাল খামারবাড়ি, একাধিক বাংলো, ভেড়ি ও জমি নিয়ে গড়ে ওঠে তাঁর প্রভাবশালী সাম্রাজ্য। একই সঙ্গে বিরোধীদের উপর হামলা, জমি দখল এবং ভয় দেখানোর অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এসেছে এলাকার কয়েকজন মহিলার মুখে। তাঁদের দাবি, শিশুদের ভয় দেখিয়ে বা আটকে রেখে মায়েদের বাংলোয় ডেকে আনা হত। সেখানে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত বলে অভিযোগ। এমনকি সন্তানদের ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখারও অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন।
এক স্থানীয় মহিলা দাবি করেন, গোটা এলাকায় বহু পরিবার বছরের পর বছর আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি।
আরও কয়েকজনের অভিযোগ, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মহিলাদের ডেকে এনে তাঁদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হত। পরিবারের সদস্যদের মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, প্রত্যন্ত সুন্দরবনের ভিতরে অত্যন্ত ব্যয়বহুল নির্মাণ করে বিশাল প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই এলাকায় গিয়ে অভিযুক্ত বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের অনেককেই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে জাতীয় নারী সুরক্ষা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার (Archana Majumdar National Commission for Women) বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মহিলাদের উপর অত্যাচারের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধীরা দাবি করছে, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে সুবিদ আলি ঢালির বক্তব্যও এখনও পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দিকেই এখন নজর সবার। স্থানীয়দের অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হবে, আইন কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে—সেই উত্তরই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। গোসাবার এই বিতর্ক কি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।