শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘বাকি অভিযুক্তরা পাতালের ভিতরে থাকলেও খুঁড়ে বের করে গ্রেফতার করতে হবে।’ শনিবার হাওড়ার বাগনানে গিয়ে নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশকে এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরে ১২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই অন্যতম মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রাতেই এক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং সিআইডি-র যৌথ দল। বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র খুনের ঘটনায় শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে শেখ সইফুদ্দিনকে।বাগনান-কাণ্ডের তদন্ত আগেই তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডির হাতে। ১৮ তারিখ ঘটনার দিন আট জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে আরও দু’জন ধরা পড়েন। এফআইআর-এ মোট ৫১ জনের নাম ছিল। তাঁদেরই এক জনকে শনিবার রাতে ধরল হাওড়া জেলা পুলিশ এবং সিআইডি-র যৌথ দল। হাওড়ার শ্যামপুর থেকে সইফুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ১৭ জুন হাওড়ার বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুন হন। বিধানভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া ছিলেন বাগনানের আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইলাম। গত ১৭ জুন মফিজুলের বাড়ির সামনে বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী জড়ো হন। কাটমানি ফেরতের দাবিতে জানিয়ে উপপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মফিজুল এবং তাঁর দলবদল বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হন। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি চলে।
সেই ঘটনায় গুরুতর জখম হন কয়েক জন। তাঁদের হাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রশান্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎকেরা। শনিবার মৃত বিজেপি কর্মীর পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতের স্ত্রীকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করেন। মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর শুভেন্দু বলেন, ‘জেলাশাসককে ধন্যবাদ জানাই, জেলার বিপর্যয় তহবিল থেকে প্রথমে ৪ লক্ষ টাকা পরিবারকে সাহায্য করেছিলেন। এবার আমি মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা দিলাম। ওঁর বছর বাইশের বড় মেয়েকে আমরা নিয়ম মেনে বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরি দিলাম।’

পাশাপাশি অভিযুক্তদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পুরো বিষয়টা পর্যালোচনা করছি। আমাকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ৫১ জনের নামে এফআইআর হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি, বাকি ৪১ জন যেখানেই থাকুক, পাতালের ভিতরে থাকলেও খুঁড়ে বের করে গ্রেফতার করতে হবে। প্রমাণ রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে সিআইডি গ্রেফতার করবে। পরিষ্কার বার্তা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, হেফাজতে থাকাকালীনই চার্জশিট পেশ করতে হবে। এবং কাস্টডি ট্রায়াল যাতে শুরু করা যায়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতে যে সব শাস্তির বিধান রয়েছে, সেটা দেওয়া হবে। পুলিশমন্ত্রীর পাশাপাশি আইনও আমি দেখি। চার্জশিট দিয়ে দিলে আমি স্পেশাল পিপি-ও নিয়োগ করব। যাতে কম সময়ের মধ্যে চার্জশিটে তদন্তকারী অফিসার যে শাস্তির সুপারিশ করবে, সেই শাস্তি যাতে পায়, তা নজরদারি করব।’