শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“নির্বাচন কমিশন দেখুক, পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া নির্বাচন সম্ভব কি না। রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করছি।” পূর্ব ঘোষণা মত রাজু বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী ক্ষেত্র বারুইপুরে গিয়ে এমন বিস্ফোরক দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তাঁর হুঙ্কার, “আমি তো যা করার করব।”
বুধবার বারুইপুরে শুভেন্দুর রোড শো ঘিরে ধুন্ধুমার কান্ড। বিরোধী দল নেতাকে ঘিরে বিক্ষোভ। উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান। এদিন বিকেল বিধানসভা থেকে বারুইপুর পৌঁছান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরের রাস মাঠ থেকে এসপি অফিসের সামনে পর্যন্ত মিছিলে কথা ছিল শুভেন্দুর। মিছিলের রাস্তাতেই ২ জায়গায় তৃণমূলের মঞ্চ। দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত তৃণমূলকে সভার অনুমতি পুলিশের। তারপরেও শুভেন্দুর কনভয় দেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। ওঠে চোর চোর স্লোগান। এরপাশাপাশি বিরোধী দলনেতাকে-গো ব্যাক গ্লোগান, কালো পতাকা দেখানো হয়। তৃণমূল ও বিজেপির স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। শুভেন্দুকে কালো পতাকা দেখান তৃণমূল সমর্থকরা। যখন মিছিল করতে শুভেন্দু বারুইপুরে এসে পৌঁছন তখন তৃণমূল সমর্থকরা তাঁকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখান, ‘চোর’ স্লোগান তোলেন। পরে এনিয়ে বক্তব্য রাখার সময় সরব হন বিরোধী দলনেতা।
তিনি চড়া সুরে বলেন, “আমাদের বিধায়ক যাঁরা এসেছেন তাঁদের গাড়ি আটকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা। পাথর ছুঁড়েছে। এমনকী জলে লঙ্কার গুঁড়ো মিশিয়ে জলও ছোড়া হয়েছে। কিন্তু, আমরা বারুইপুরে ঢুকেছি। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি দেখুন। আর লুচির মতো ফুলুন। দেখবি আর জ্বলবি লুচির মতো ফুলবি। আমি আমার কোনও কর্মী আঘাতপ্রাপ্ত হোক চাই না। আমরা লাঠি সহ্য করেছি। গাড়িতে না থাকলে লাঠি আমার মাথায় পড়ত। আমার গাড়ি ৩০ বার লাঠিপেটা করা হয়েছে। এবং যত রকম অশ্রাব্য ভাষা থাকে…ভেবেছিল গাড়ি ঘুরিয়ে পালাব। আমরা মোদিজির সৈনিক, হিন্দুর বাচ্চা। কাউকে ভয় করি না। ঔরঙ্গজেবকে ভয় করিনি। চেঙ্গিজ খাঁ-কে ভয় করিনি। তোরা কে হরিদাস পাল যে তোদের ভয় করব। এখানকার পুলিশ-এসপি আপনি আজ যা করলেন তার হিসাব হবে। ”
বারুইপুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিপ্তে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানান বিরোধী দলনেতা।

শুভেন্দু বলেন, “নির্বাচন কমিশন দেখুক বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব কিনা। আমি রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানাচ্ছি। জলে লঙ্কার গুঁড়ো মিশিয়ে জল ছোঁড়া হয়েছে। আমি আমার কোন কর্মী আঘাত প্রাপ্ত হোক চাই না। ৩০ বার লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আমরা হিন্দুর বাচ্চা কাউকে ভয় করিনা। এখানকার পুলিশ, এসপি যা করলেন তার হিসাবে হবে। গাড়িতে না থাকলে লাঠির ঘা আমার মাথায় পড়ত। তোলাবাজ বিমান বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে”।