সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
আদালতের নির্দেশ মেনেই তদন্তে যাবতীয় সহযোগিতা করব। আমার লুকোনোর কিছুই নেই। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার সময় এমনটাই জানিয়ে দিলেন রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। আদালতের রায়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। কিন্তু মন্ত্রীকে হেফাজতে নিতে পারবে না। বৃহস্পতিবার ইডি দপ্তরে ঢোকার সময় মন্ত্রী জানান, তিনি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করবেন।
আদালতের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) দু’দিনই ইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে মন্ত্রীকে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পর চন্দ্রনাথ সিনহাই প্রথম রাজ্য মন্ত্রী, যাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থা চার্জশিট প্রদান করেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর চন্দ্রনাথ নিজে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন এবং কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। আপাতত ইডি দফতরে চন্দ্রনাথকে দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং পরবর্তীতে যদি তদন্তকারীরা মনে করেন, তাঁকে পুনরায় ডাকা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে মন্ত্রীকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার চার্জশিটে, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহর বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ করে ইডি। এনিয়ে ইডি-র বিশেষ আদালতে শুনানি শেষ হয় শনিবার।শুনানিতে কারামন্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য় জোরাল সওয়াল করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।শেষ অবধি চন্দ্রনাথ সিংহর ভাগ্যে কী রয়েছে? ইডি কি তাঁকে হেফাজতে পাবে? নাকি কারামন্ত্রী বাইরেই থাকবেন? তা নিয়ে চড়ছিল জল্পনা-গুঞ্জন। এমনকি বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে প্রকাশ্যেই অনুরোধ জানিয়েছিলেন রাজ্যের কারা মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। এই অবস্থায়, বুধবার ইডি-র বিশেষ আদালতে বিচারক নির্দেশে বললেন,চন্দ্রনাথ সিংহকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না ইডি। ইডি-র তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুললেন বিচারক। প্রায় দেড় বছর আগে, ২০২৪-এর ২২শে মার্চ চন্দ্রনাথ সিংহর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪১ লক্ষ টাকা উদ্ধারের দাবি করেছিল ইডি তারপর, চার্জশিট জমা দেয় তারা। বুধবার বিচারক প্রশ্ন করেন, টাকা উদ্ধারের পর থেকে চার্জশিট দিতে এত দেরি কেন হল ইডি-র?
তবে আদালতের তবে এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কটাক্ষ, ‘এই ধরনের অপরাধী যদি বাইরে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে মুশকিল। চন্দ্রনাথ নিয়ে আদালতের রায়ে আমরা মর্মাহত। কীভাবে এই রায় এল, তার পেছনের কারণ খুঁজতে হবে। আদালতের রায় বিচারাধীন বিষয়, কিন্তু রাজ্যবাসীর কাছে এর বার্তা খুব খারাপ যাচ্ছে।’