রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
“আমি তো বারংবার বলেছি, গ্রামীণ রাস্তায় লোডেড ট্রাক যাবে না। কেন পুলিশ এটা করছে না? রাজীব (ডিজি) আমি আর কতবার বলব?” বাংলা বিভিন্ন গ্রামীন রাস্তায় মাটি, ইঁট , বালি সহ নির্মাণ সামগ্রী বহনের ফলে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে বলে আগেই যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, তা মানার জন্য রাজ্য পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দৃশ্যতই অপ্রস্তুত দেখায় ডিজিকে। তিনি এ সময় বলার চেষ্টা করেন, “বিষয়টি আমি দেখি নিচ্ছি ম্যাডাম।”
উত্তরকন্যার ৯০ মিনিটের প্রশাসনিক মিটিংয়ে (North Bengal administration meeting) জেলা ধরে ধরে উন্নয়নের কাজ খতিয়ে দেখলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সেখানে পুলিশের একাংশের লবি বাজি থেকে সরকারি কাজের গড়িমসি, শুরু থেকেই একের পর এক প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৈঠকের শেষ মুহূর্তে ধমক দেন রাজ্যে পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তা (ডিজি) রাজীব কুমারকেও। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “বলতে বলতে জিভ ক্ষয়ে গেল! আর কতবার বলতে হবে?’
এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকের একেবারে শেষে বলতে ওঠেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়া। তিনি বলেন, “গ্রামে গঞ্জে নতুন রাস্তা তৈরি করতে দিয়ে পুরনো রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। কারণ এত বেশি লোডেড ট্রাক ঢোকানো হচ্ছে…’!
সাংসদের কথা শেষ হওয়ার আগেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলতে শুরু করেন, “আমি তো বারংবার বলেছি, গ্রামীণ রাস্তায় লোডেড ট্রাক যাবে না। কেন পুলিশ এটা করছে না? রাজীব (ডিজি) আমি আর কতবার বলব? ” দৃশ্যতই অপ্রস্তুত দেখায় ডিজিকে। তিনি এ সময় বলার চেষ্টা করেন, “বিষয়টি আমি দেখি নিচ্ছি ম্যাডাম।”
যা শুনে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রাগে গজগজ করতে করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বারবার বলা হয়েছে, গ্রামীণ রাস্তায় লোডেড ট্রাক ঢোকাবেন না। টাকা নেই তা সত্ত্বেও আমরা কাজ করছি, আর এভাবে সেই রাস্তাগুলো ভেঙে দিচ্ছে, এক কথা বারবার বলতে ভাল লাগে না। বলতে বলতে আমার জিভটা ক্ষয়ে গেল!”
প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারে বারে গ্রামীন রাস্তায় বাড়ি গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গ্রামীণ রাস্তায় মাটিমাটিয়া এবং নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসায়ীরা সেই বেআইনি কাজ করে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে। বর্ধমান থেকে শুরু করে সোনারপুর গ্রামীন এলাকায় প্রায় প্রত্যেকটি রাস্তা চলে গিয়েছে মাটি মাফিয়াদের দখলে।
আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকের কাছে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, যেগুলো লোকালি স্টাডি করলে হয়ে যায়, সেগুলো কেন করছেন না? পাবলিকের কাগজগুলো কি আপনারা উল্টে দেখেনও না? সময়ের কাজ তো সময়ে করতে হবে। করছি বলে তো বছরের পর বছর তো চলে যেতে পারে।
মনে করিয়ে দেন, “আমি শুধু আলিপুরদুয়ার না, প্রত্যেকটা জেলাকে বলছি। কমপ্লেন কিন্তু প্রচুর আসছে? ভাষণ না দিয়ে কাজ করুন।”
এরপরই পুলিশের লবিবাজি নিয়ে সরব হতে দেখা যায় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে। ভরা বৈঠকে হঠাৎই কোচবিহারের ডিএসপি হেডকোয়াটার্স এর খোঁজ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দেখা যায় তিনি বৈঠকে নেই। এরপরই জেলার পুলিশ সুপারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোচবিহারের ডিএসপি হেডকোয়াটার্সকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তোমরা কাজ করতে দাও না। তোমরা নিজেরাই যদি নিজেদের মধ্যে গ্রুপ করে নাও, তাহলে কি করে হবে? সে কাজ করতে চায়, তবু কাজ করতে দেবে না, এ আবার কী! পুলিশ কি নিজেদের মধ্যে গ্রুপ করে? গ্রুপ তো পলিটিক্যাল লিডাররা করে! এটাই এতদিন জেনে এসেছি।”

মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, “আমি জানি কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম এটা নিয়ে ন্যারেটিভ করার চেষ্টা করবে, তাদের বলব, এটা প্রশাসনিক মিটিং, আশা করব, এটা নিয়ে কাউকে ছোট, বড় করবেন না।”