সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির ডাকা মিছিল ঘিরে মঙ্গলবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মধ্য কলকাতার বেকবাগান এলাকা। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের দপ্তরের সামনে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যার জেরে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এভিবিপি, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক সংগঠনের ডাকে বাংলাদেশের উপদূতাবাস অভিযানে জড়ো হন অনেকে। বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদ মিছিল ও ডেপুটেশনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। শিয়ালদহ রেল স্টেশনের সামনে থেকে তাদের মিছিল শুরু হয়। শত শত কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মিছিলটি বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে কলকাতার বেগবাগানের সামনে লোহার ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সামনে পৌঁছোনোর আগেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ উপদূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেকবাগান এলাকা। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের লাঠির ঘায়ে কয়েক জন আহত হয়েছেন। পরে বিক্ষোভকারীদের অনেককে টেনেহিঁচ়ড়ে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলা হয়। অনেক বিক্ষোভকারীকে দেখা যায়, প্রিজন ভ্যানের ছাদের উপর উঠে পড়তেও।
বেকবাগান তপ্ত হয়ে ওঠায় বিজেপি নেতৃত্বও ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। ঘটনাস্থলে যান উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। তাঁর দাবি, পুলিশের লাঠি চালানোর প্রতিবাদ জানাতে এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির পাশে দাঁড়াতে গিয়েছেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও আন্তর্জাতিক মহল নীরব ভূমিকা পালন করছে। সেই প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
এর আগে, সোমবার কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে ভারতের কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। ওই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।