শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
মার্কিন সেনেটে আর্থিক বাজেট পাস না হওয়ায় থমকে গেল কোথায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যাবতীয় সরকারি পরিষেবা। সরকারি কর্মীদের বেতন কোথা থেকে আসবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় স্তব্ধ হয়ে গেল যাবতীয় সরকারি দপ্তরের কাজ। নতুন আর্থিক বছর শুরু হয়ে গেলেও সেনেটে আর্থিক বাজেট পাস হয়নি এখনো। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস গত ১৯ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত বাজেট বিল পাস করেছিল। তাতে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি খরচ চালানোর প্রস্তাব ছিল। কিন্তু সেনেটে সেই বিল অনুমোদন না পাওয়ায় শেষমেশ ভেস্তে যায় আপসের চেষ্টা। বুধবার মধ্যরাত পেরোতেই ২০২৫ অর্থবছর শেষ, আর সেই সঙ্গে কার্যকর হয়ে গেল শাটডাউন। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি বাড়ানো হোক, মেডিকেডে কাটছাঁট বন্ধ করা হোক। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা কোনও গঠনমূলক সমঝোতায় আসছেন না। দুই পক্ষের এই অচলাবস্থায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটদের অনড় অবস্থান দেশকে শাটডাউনের পথে ঠেলে দিল।
কেন এই শাটডাউন?
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূলে রয়েছে গত মঙ্গলবারের একটি বৈঠক। প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হয়। কিন্তু গত অর্থবর্ষের শেষদিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর, নতুন বাজেট অনুমোদন বিল নিয়ে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট-দুই পক্ষই কোনো শর্তে একমত হতে পারেনি। নয়া বিলে প্রয়োজনীয় তহবিলের অনুমোদন নিয়ে রিপাবলিকানরা ভোটাভুটি চাইলেও, তাতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন মেলেনি। সেনেটে বিল পাশ করাতে প্রয়োজন হয় ১০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৬০ জনের ভোট। সেখানে রিপাবলিকানদের সদস্য সংখ্যা কেবল ৫৩। পর্যাপ্ত ভোটের অভাবে বিলটি প্রেসিডেন্টের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। এই গোটা ঘটনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবারেই প্রথম নয়, ছয় বছর আগেও মার্কিন মুলুকে একবার এই শাটডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তখনও হোয়াইট হাউসে মার্কিং প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়ে টানা ৩৫ দিনের বেশি অচলাবস্থা ছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত দীর্ঘতম শাটডাউন। ফের তাঁর সময়কালেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো।
শাটডাউন হলে কী হবে? কোথায় প্রভাব কোথায়?
যেহেতু আর্থিক তহবিলের অভাবে এই পরিস্থিতি, তাই এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। শাটডাউনের প্রভাব পড়বে সরকারি দফতর, জাতীয় উদ্যান, প্রকল্প এবং বহু অত্যাবশ্যকীয় সরকারি পরিষেবায়। কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মীর বেতন আপাতত বন্ধ হয়ে যাবে। সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের কাজ চালু থাকলেও তাঁরা শাটডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাইনে পাবেন না।

বেতন বন্ধ: সরকারের বহু কর্মীর বেতন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা।
কর্মচ্যুতি: কাজ হারাতে পারেন বহু মানুষ।
সামাজিক প্রকল্প: একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বন্ধ থাকার সম্ভাবনা।
সরকারি পরিষেবা: এই অচলাবস্থা না কাটা পর্যন্ত অনেক সরকারি পরিষেবাতেই ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই কর্মী ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি ইতিবাচকভাবে বলেছেন, “শাটডাউন থেকে অনেক ভাল কিছু বেরিয়ে আসতে পারে।” তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন, “আমরা যা চাই না, এমন অনেক জিনিস থেকে মুক্তি পেতে এই বিরতি ব্যবহার করবেন।”