সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
ফের ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক খুনের অভিযোগ। এবারে বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুণে। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম সুখেন মাহাতো। বয়স ২৪। পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের বাসিন্দা এই যুবক পুনেতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সুখেনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিজনেরা। এই ঘটনার কথা জানার পরেই বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে এই ঘটনাকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন মমতা। সরাসরি ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে চিহ্নিত করে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন।
পুরুলিয়ার বড়বাজার এলাকার তুমরাসোল গ্রামের বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী সুখেন মাহাতো পুনেতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁকে খুনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার। জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের তুমড়াশোল গ্রামের বাসিন্দা সুখেন বছর সাতেক আগে অপর দুই ভাইয়ের সঙ্গে পুণেতে গিয়েছিলেন। অন্য দিনের মতো গত সোমবারও কাজে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ঘরে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন সুখেনের অপর দুই ভাই। শেষে মঙ্গলবার উদ্ধার হয় তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ। বুধবার ফোনকলে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে পুরুলিয়ার বাড়িতে।
নিহত শ্রমিকের বাবা ধীরেন মাহাতো বলেন, ‘ছেলেদের বেশিদূর পর্যন্ত লেখাপড়া করাতে পারিনি। একটু বড় হতেই তাই তিন ভাই মহারাষ্ট্রের পুণেতে এক সংস্থার কাজে চলে যায়। যে এলাকায় ওরা কাজ করত সেখানে সকলেই মারাঠী এবং হিন্দি ভাষায় কথাবার্তা বলত। আমার ছেলেরা বাংলায় কথাবার্তা বলত। সে কারণেই আমার মেজো ছেলেকে খুন করা হয়েছে।’ মৃতের কাকা দীনেশচন্দ্র মাহাতোরও অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার কারণেই খুন করা হয়েছে তাঁর ভাইপোকে। সুখেনের মৃত্যুর যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার। এই ঘটনায় সরকার যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে, সেই আর্জিও জানিয়েছে তারা।

ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে তিনি মর্মাহত, ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত। মুখ্যমন্ত্রী একটি ভিডিও ফুটেজও শেয়ার করেছেন, যেখানে সুখেনের রক্তাক্ত দেহ দেখানো হয়েছে।
মমতা লেখেন, ‘মহারাষ্ট্রের পুনেতে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের ২৪ বছর বয়সী অভিবাসী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর বর্বর হত্যাকাণ্ডে আমি হতবাক, ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। এটি ঘৃণামূলক অপরাধের চেয়ে কম কিছু নয়। একজন যুবককে তাঁর ভাষা, তাঁর পরিচয় ও শেকড়ের জন্য নির্যাতন করা হয়েছিল এবং হত্যা করা হয়েছিল। এটি এমন একটি পরিবেশের সরাসরি পরিণতি যেখানে ঘৃণাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং নিরপরাধদের টার্গেট করা হয়।’
তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং মৃতের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেন। মমতা লেখেন, ‘আমি অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। সুখেনের পরিবারের উদ্দেশ্যে বলছি, এই অকল্পনীয় শোকের মুহূর্তে বাংলা আপনাদের পাশে আছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হবে।’