সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“বিজেপি নেতারা রথ নিয়ে আপনাদের এলাকায় এলে তাদের মাছ-মাংস রেঁধে খাওয়ান।” বাংলায় বিজেপি নেতারা পরিবর্তন যাত্রার নামে যে রথযাত্রা শুরু করেছেন তার প্রেক্ষিতে আজ নজরুল মঞ্চে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে এমন তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাশাপাশি এই মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করে অভিষেক বলেন, “বিজেপির বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বলছেন, মাছ-মাংস খাওয়া যাবে না। আপনাদের এলাকা দিয়ে যখন এরা পরিবর্তন যাত্রা করবে, তখন একটু মাছ-মাংস-ডিম রান্না করে দাঁড়িয়ে থাকবেন। না খেলে না খাবেন। অতিথি দেব ভব; আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি তো সেটাই শেখায়। বাইরে থেকে কেউ এলে আমরা আপ্যায়ন করি। বলবেন, আমাদের টাকা তো এত বছর ধরে আটকে রেখেছেন। এই খাবার খান। মিষ্টি থেকে চা সব খাওয়াবেন। আর ওই রথগুলি যত্ন করে রাখতে বলবেন। কারণ ওই রথগুলিতে করেই ফিরে যেতে হবে। বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টির পরিবর্তন যাত্রা বা রথযাত্রাকে বিদ্রূপ করে অভিষেক বলেন, ফাল্গুন মাসে রথ হয় বলে আগে শুনিনি। ৭০টা বিধায়ক নিয়ে যদি রথে চড়তে হয়, তবে বেশি আসন পেলে কি চারতলা রথ বানাত? আমরা দেখে এসেছি জুলাই আগস্ট মাসে রথযাত্রা হয়। জগন্নাথদেবের রথের কথা শুনেছি। শ্রীকৃষ্ণ-অর্জুনের রথের কথা শুনেছি মহাভারতে। আর এই দু’নম্বরি নেতাদের রথে চড়তে দেখছি। বিরোধী আসনে বসে ৭০টি আসন পেয়েই রথে চড়ছে। ২০০ পার করলে কীসে চড়ত? এদের পা মাটিতে পড়ছে না। ওরা রথে থাকলেও তৃণমূল কিন্তু পথেই থাকবে। আর ওই রথেই ওদের উল্টো রথ বা বিদায় ঘণ্টা বাজবে।”
বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে আজ নজরুল মঞ্চে দলের তৃণমূল স্তরের সাংগঠনিক নেতাকর্মীদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের সভার মূল লক্ষ্য ছিল তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দলের ভিত মজবুত করা।তাঁদের কাছে পৌঁছাতে এদিন থেকে তপসিলির সংলাপ কর্মসূচির সূচনা করেন অভিষেক। সেখান থেকেই অভিষেক ঘোষণা করেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপিকে যদি ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনা যায়, তবে ২০২৯ সালের আগেই দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের পতন নিশ্চিত।
খুঁটি পুজো ২৬-শে বিসর্জন ২৯-এ
বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে রেকর্ড সংখ্যক আসনের ব্যবধানে হারানোর জন্য নেতাকর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে অভিষেক বলেন, “আগামী ২ মাস মাঠ-ময়দান ছাড়া চলবে না। প্রতিটি বুথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।জয়ের ব্যবধান ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখতে হবে। বিজেপিকে ৫০-এর নীচে নামান, ২০২৯ পর্যন্ত কেন্দ্রে সরকার টিকবে না। ২৫০-এর বেশি আসনে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতান। আগামী দিনে এদের শূন্য করতে হবে। এদের জেতানো আর দুধকলা দিয়ে সাপ পোষা একই। ছাব্বিশের নির্বাচন আসলে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিপুজো। মে মাসে মানুষই যোগ্য জবাব দেবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল ২৫০-এর বেশি আসন পেয়ে চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরবে।”
প্রধানমন্ত্রী কেন বিচারাধীন থাকবেন না?
বাংলায় BJP সরকারের নির্দেশে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধন করতে গিয়ে যেভাবে ৬০ লক্ষের বেশি মানুষের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে এবং আরো প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি মানুষের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন বা বিচারাধীন বলে ঝুলিয়ে রেখেছে তার প্রেক্ষিতে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন, সেই সাধারণ মানুষ যদি আজ আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে থাকেন, তবে প্রধানমন্ত্রী কেন থাকবেন না? অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনতে চায় বিজেপি। ২৪০ সাংসদ নিয়ে বিআর আম্বেদকরের রচিত সংবিধান পাল্টাতে চায়। সেই দল যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তবে এটা নিশ্চিত যে বিআর আম্বেদকর এসসি এসটি-দের সংরক্ষণের অধিকার দিয়েছে তা তুলে দেওয়া হবে। কে বাংলায় চিকেন প্যাটিস, এগ চাউমিন বিক্রি করবে তা দিল্লির জমিদাররা ঠিক করবে না। যতদিন আমরা আছি তা করতে দেবো না। আম্বেদকরের নাম নিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গায়ে লাগছে। তিনি বলছেন, এখন আম্বেদকরের নাম নেওয়া ফ্যাশন হয়ে গিয়েছে।

BJP রাজত্বে অত্যাচারিত তপশিলিরা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশ করা এনসিআরবি রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরে অভিষেক বলেন, তপসিলি জাতি এবং উপজাতিদের উপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে। এই তথ্য এনসিআরবি রিপোর্টে উঠে এসেছে। এরা ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলে। উত্তরের যে সব জেলায় বিজেপির বিধায়ক-সাংসদ সেখানে গিয়ে দেখুন কেন্দ্র থেকে কটা টাকা এনেছে। পাঁচ বছর হয়ে গিয়েছে কিন্তু খুঁটি পুঁতে ১০ পয়সার বালবও জ্বালায়নি। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনতে চায় বিজেপি। সেই দল যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তবে এটা নিশ্চিত যে বিআর আম্বেদকর তপসিলিদের সংরক্ষণের অধিকার দিয়েছে তা তুলে দেবে।