শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারবারি পলাতক!” রীতিমতো ছবি পোস্ট করে এমন বিস্ফোরক করলেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি থেকে গতকাল রাতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে পানিহাটির বাসিন্দা নইম আনসারি ওরফে নেপালির বাড়ি থেকে পুলিশ পাইপ গান, স্টেন গান এবং সেনার ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলেছেন যে, নইম স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ঘনিষ্ঠ এবং বর্তমানে পলাতক।
শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার বিকেলে নিজের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে উদ্দেশ্য করে ‘বড় পরামর্শ’ দিয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারবারি পলাতক! উত্তর ২৪ পরগণার পানিহাটি বিধানসভার বাসিন্দা নঈম আনসারীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। বিধায়ক নির্মল ঘোষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নঈম আনসারীকে প্রায়শয়ই নির্মল ঘোষের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। বহুবার ওনাদের একত্রে ফ্রেমবন্দি হওয়ার ছবি, ভিডিও উপলব্ধ রয়েছে।” যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি কলকাতা সারাদিন।
কাউন্সিলরের ‘ডানহাত’ এবং শুভবুদ্ধির ‘পরামর্শ’
বিজেপি বিধায়ক আরও দাবি করেছেন, পানিহাটি পুরসভার ৭ নং ওয়ার্ড নিবাসী নইম আবার ৫ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দে-র ডানহাত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নিজের পোস্টের সঙ্গে শুভেন্দু দুটি ছবিও শেয়ার করেছেন, যেখানে নইমকে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের পর নইম পলাতক। এই বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ খোঁজ দিতে পারবেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে তাঁর ‘পরামর্শ’, “পানিহাটির বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি নিশ্চিত বিধায়ক নির্মল ঘোষ আপনাদের নঈম আনসারী কোথায় আছে তার খোঁজ দিতে পারবেন। যুব নেতা মনীশ শুক্লা খুনের আসামীও তো নাকি ওনার আশ্রয়েই ছিলেন।”

এর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শাসক দলের বিরুদ্ধে। তিনি একটি পোস্টে বলেছেন ধুপগুড়ি ট্রাক টার্মিনাস প্রথম উদ্বোধন হয় ২০০৯ সালে। এর পর চলতি বছরে পর পর দুবার ওই একই ট্রাক টার্মিনাসের উদ্বোধন করা হয়েছে জনগণকে অন্ধকারে রেখে। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে ট্রাক টার্মিনাসের বারবার উদ্বোধন নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ২০০৯ সালে প্রথমবার এই ট্রাক টার্মিনাসের উদ্বোধন হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে, এই বছরের ২০ মে ধূপগুড়ির বিধায়ক আবারও একই টার্মিনাসের উদ্বোধন করেন। এরপর, গত ২ জুন, ২০২৫-এ ধূপগুড়ির বিধায়ক ফের একবার এই ট্রাক টার্মিনাসের উদ্বোধন করেছেন। একই প্রকল্পের তিনবার উদ্বোধন নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।