সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘আমি ১ লক্ষ হাফেজকে দিয়ে কোরান পাঠ করাব। মুর্শিদাবাদের কোনও জায়গায় প্যান্ডাল করব। তারপর কোরান পাঠ হবে।’ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা তে যাবতীয় বিতর্ক উড়িয়ে গতকাল বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পরে আজ ব্রিগেডে ৫ লক্ষ কন্ঠে গীতা পাঠের দিনের এমন নতুন ঘোষণা করলেন ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
রবিবার ব্রিগেডে যখন পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ চলছে, ঠিক তখনই পাল্টা এবার মুর্শিদাবাদে কোরান পাঠের আয়োজন করবেন বলে ঘোষণা করলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, গীতা পাঠ করিয়ে বিজেপি যেমন ক্ষমতা দখল করতে চাইছে, ঠিক তেমনই কোরান পাঠ করিয়ে বিধানসভায় আরও বেশি মুসলমান বিধায়ক চাইছেন হুমায়ুন। বিজেপির নেতাদের মদতে সনাতনী হিন্দুত্বের জেগে তুলে ব্রিগেডে ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের দিনে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘বিজেপি নতুন করে কিছু করছে না। বরাবরই হিন্দুত্বের তাস খেলে। ওরা রাম মন্দিরের এজেন্ডা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। ১৯টা রাজ্য দখল করেছে। বাংলা দখলের জন্য গীতা পাঠ করছে। আমি মুসলমানদের বেশি বেশি করে বিধানসভায় জেতার জন্য কোরান পাঠের আয়োজন করব। লাখো লোক নিয়ে কোরান পাঠ হবে। তাঁদের আরামসে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে দিনভর মুর্শিদাবাদে কোরান পাঠের আয়োজন। আমি ১ লক্ষ হাফেজকে দিয়ে কোরান পাঠ করাব। মুর্শিদাবাদের কোনও জায়গায় প্যান্ডাল করব। তারপর কোরান পাঠ হবে। আর গীতা পাঠ হতেই পারে, সনাতন ধর্মের কোনও মানুষ গীতা পাঠ করতেই পারেন। আমার শ্রদ্ধা রয়েছে।’
হুমায়ুনের পাল্টি
তৃণমূল থাকে তল থেকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করার কয়েক মিনিটের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন ‘আগামীকালই আমি পদত্যাগ করব।’ তবে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরের দিন আবার পাল্টি খেলেন হুমায়ুন। আজ অর্থাৎ রবিবার হুময়ুন জানালেন তিনি পদত্যাগ করছেন না। প্রথমে ভেবে থাকলেও এখন পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, শুধুমাত্র ভরতপুরের মানুষের কথা ভেবেই তিনি এই পদত্যাগ করছেন না। সত্যিই কি তাই? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কৌশল আছে? কত বৃহস্পতিবার ফিরহাদ হাকিম তাকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করার পরেই হুমায়ুন ঘোষণা করেন যে তিনি দল ছাড়বেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘বাংলায় ৩৭ শতাংশ সংখ্যালঘু আছে। তাদের সিংহভাগের ভোট পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা। খুব অহঙ্কার হয়েছে।
চূর্ণ করব আমি। আমি ওঁকে প্রাক্তন করবই।’ সেই সময়ই হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, নতুন দল গড়বেন আগামী ২২ তারিখ আর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন আগামী ১২ ডিসেম্বর। শুক্রবার বাবরী মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তরের অনুষ্ঠান হয়েছে। আর ঠিক তার পরের দিন হুমায়ুন জানালেন তিনি পদত্যাগ করবেন না। পাল্টির আগে হুমায়ুন বলেছিলেন, ‘১৭ তারিখ যাব। স্পিকারের সঙ্গে যোগাযোগ করব। নিচে যাব রাজ্যপালের ঘরে। চার লাইনের পদত্যাগ পত্র দিয়ে চলে আসব। হুমায়ুন কবীরকে এই সব ডাঁট দিয়ে লাভ নেই।’ আর আজ রবিবার হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করার কথা ঘোষণা করেছিলাম। এখানে যাঁরা ইউসুফকে ভোট দিয়ে সাংসদ করেছেন, তাঁকে খুঁজে পায় না। বহু নথিতে সই করতে হয়। তারা বলছে আমায় আপনি পদত্যাগ করবেন না। আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি, প্রতীক কী নেবেন আপনার ব্যাপার। আবার আপনাকে ভোট দিয়ে বিধায়ক বানাব। ভরতপুরের মানুষের জন্য আমি পদত্যাগ করব না।’