সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
Destination Bengal. Destination Kolkata. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কলকাতা তথা বাংলাকে বিশ্বের অন্যতম বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার জন্য যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার আরেক অভিনব প্রকল্পের সূচনা হতে চলেছে নিউ টাউনে। নিউটাউনের ইতিমধ্যেই বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি হবে তিনিও করতে এগিয়ে এসেছে বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি প্রথম সারির তথ্য প্রযুক্তি এবং কনসালটেন্সি সংস্থা।
এবারে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে কলকাতা তথা বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিউটাউনের বুকে তৈরি হতে চলেছে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি কেন্দ্র। কিছুদিন আগেই এই প্রকল্পের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাস করিয়ে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবারে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল রাজ্য সরকার। আর গোটা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে হিডকো কর্তৃপক্ষের হাতে।
কলকাতার নিউ টাউনে শুরু হতে চলেছে এক অনন্য ও বিশ্বমানের প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গ হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (WBHIDCO) প্রকাশ করেছে একটি এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (EOI), যেখানে ২৫ একর জমিতে গড়ে উঠবে ইন্টারন্যাশনাল ইনফরমেশন, টেকনোলজি, এন্টারটেইনমেন্ট ও কালচারাল পার্ক।
এই পার্ক তৈরি হবে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে এবং এর অন্যতম আকর্ষণ হবে একটি বিশ্বমানের কনসার্ট এরিনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কলকাতাকে আন্তর্জাতিক মানের সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত কিছুদিন আগেই নবান্ন থেকে অভিনব এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা জানিয়েছিলেন, নিউ টাউনে নির্মিত হতে চলা এই সংস্কৃতিকেন্দ্রের পোশাকি নাম ‘ইন্টারন্যশনাল ইনফর্মেশন টেকনোলজি, এন্টারটেনমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল পার্ক’ (আইআইটিইসি পার্ক)। বাংলা নাম হবে ‘বিশ্ব অঙ্গন’।
কী হবে সেখানে? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট করা যাবে ওই পার্কে। নির্মাণের মূল দায়িত্বে থাকবে হিডকো। জমির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এর পরেই দরপত্র ডাকা হবে হিডকোর তরফে। পিপিপি মডেলে গড়ে উঠবে ‘বিশ্ব অঙ্গন’।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমার কাছে অনেকেই দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু কলকাতার কাছে ২৫ একর জমি খুঁজে পাওয়া মুখের কথা নয়। বিজিবিএস (বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন)-এর পর থেকেই আমরা জমি খোঁজা শুরু করেছিলাম। অবশেষে নিউ টাউনে ২৫ একর জমি পাওয়া গিয়েছে।’’ জমির আয়তন উল্লেখ করে মমতা বোঝাতে চান, বড় আকারেই এই প্রকল্প গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য সরকার।
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য
এই অত্যাধুনিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কেন্দ্রের মধ্যে থাকবে নানা চমকপ্রদ সুবিধা:
🎵 ইনডোর কনসার্ট/ইভেন্ট ভেন্যু – ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ দর্শকের আসন ক্ষমতা
🎶 ওপেন-এয়ার অ্যাম্ফিথিয়েটার – প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ মানুষের জন্য বসার ব্যবস্থা
🎭 আধুনিক কালচারাল পারফরম্যান্স জোন
🖼️ ডিজিটাল গ্যালারি, মিউজিয়াম ও ইমারসিভ এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার
🍴 ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (F&B) হাব ও আর্টিস্ট স্পেস
🌳 সবুজ ল্যান্ডস্কেপিং ও উন্মুক্ত আড্ডা জোন
💡 প্রযুক্তি ও বিনোদনকে একত্রিত করার জন্য বিশেষ ইনোভেশন জোন
অবস্থান ও সংযোগ ব্যবস্থা
প্রকল্পের জমি নিউ টাউন, রাজারহাটের অ্যাকশন এরিয়া–1E-তে অবস্থিত।
জমির আয়তন: ২৫ একর (প্রায় ১০১,৩১৮.১৯ বর্গমিটার)
চমৎকার মেট্রো রেল সংযোগ – প্রকল্প সাইট দুইটি MRT স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত

আশেপাশে রয়েছে:
রিলায়েন্স কর্পোরেট আইটি পার্ক
বেঙ্গল টেক পার্ক
একাধিক আবাসন প্রকল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র
সাইটের চারপাশে প্রশস্ত রাস্তা, সবুজায়ন এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
🔹 সংস্কৃতি ও পর্যটনের বিকাশ – আন্তর্জাতিক মানের কনসার্ট, উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কলকাতাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।
🔹 তরুণদের সম্পৃক্ততা – সৃজনশীল শিল্প, প্রযুক্তি ও বিনোদনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
🔹 অর্থনৈতিক উন্নয়ন – আতিথেয়তা, পর্যটন, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে।
🔹 বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং – কলকাতা একটি গ্লোবাল কালচারাল হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রকল্পটি গড়ে তোলা হবে WBHIDCO-এর অধীনে, যা নিউ টাউনের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রধান দপ্তর।
PPP মডেল অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগকারী এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল সাংস্কৃতিক অবকাঠামো নির্মাণ হবে।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে স্থপতি, প্রকৌশলী ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞরা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
এখানে হবে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক উৎসব, প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্স।
নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল ইনফরমেশন, টেকনোলজি, এন্টারটেইনমেন্ট ও কালচারাল পার্ক কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। একদিকে এটি হবে আন্তর্জাতিক মানের কনসার্ট ও বিনোদনের গন্তব্য, অন্যদিকে এটি তরুণদের জন্য হবে সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির এক মিলনক্ষেত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প কলকাতার অর্থনীতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। বলা যায়, এটি হবে ভবিষ্যতের “সাংস্কৃতিক নিউ টাউন”।