সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
রোজকার রুটিন মত নবান্নে পৌঁছে লিস্ট ধরে 14 তলায় না গিয়ে হঠাৎ করেই ১২ তলায় পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকালে সবেমাত্র কম্পিউটার অন করে কাজে বসতে না বসতেই চোখের সামনে নিজের চেয়ারের পাশে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে পেয়ে চক্ষু চড়ক গাছ নবান্নের অর্থ দপ্তরের আধিকারিকদের। আজ মঙ্গলবার আচমকাই সেই দফতরে ‘সারপ্রাইজ ভিজট’ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ছ থেকে সাত মিনিট সেখানে ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ নবান্নে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর চোদ্দ তলায় না গিয়ে সোজা বারো তলায় অর্থ দফতরে ঢোকেন। মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন জানতে পেরে অর্থ সচিব প্রভাত মিশ্র বেরিয়ে আসেন। টুকটাক কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী করিডরে হেঁটে উপরে উঠে যান। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাছে পেয়ে অর্থ দফতরের কর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে চান। মুখ্যমন্ত্রীও তাঁদের আবদার রাখেন।
প্রতিদিন নবান্নে এসে সাধারণত সরাসরি নিজের অফিসে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মঙ্গলবার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে অর্থ দফতরে পরিদর্শন করেছেন তিনি। নবান্নের অন্যান্য দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিট নতুন নয়। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী আচমকা ভূমিদফতর, অর্থদফতরের কাজ কর্ম দেখতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
এদিন সরকারি দফতরের কাজ ও খতিয়ান নিয়ে আলোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, সরকারি কাজের ফাইল নিয়েও কথা হয়েছে। ২০২৩ সালে মার্চ মাসে এইভাবেই সারপ্রাইজ ভিজিট করেছিলেন স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে। সেই সময় কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। অধিকাংশ চেয়ার ফাঁকা দেখে কর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ২ বছর পর ফের নবান্নের আরেক দফতর ঘুরে দেখলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগে এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থ সচিবের উদ্দেশ্য বলেছিলেন, “অর্থ দফতরের সচিব প্রভাত মিশ্র খুব ভাল মানুষ। কিন্তু তোমার দফতরে অনেক বামপন্থী লোক আছে। এটা আলিমুদ্দিন স্ট্রিট বানিয়ে দিয়েছে। কয়েকজন বাদ দিয়ে বেশিরভাগ লোকই বামপন্থী রাজনীতির আলোচনা করে ওখানে বসে। দরকার হলে নতুন লোক নিয়ে এসে কাজ করাও।”
একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন ছিল, এই দফতরে ফাইলের পর ফাইল পড়ে থাকে। মিটিং মিছিল করেন একাংশ লোকজন। এরপর আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা অর্থ দফতরে যাওয়া কি সেই কারণেই? প্রশাসনিক মহলে সেটাই এখন চর্চার বিষয়।