শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভা থেকে যে সমস্ত অভিযোগ করেছেন তার স্বপক্ষে যদি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যাবতীয় তথ্য প্রমাণ পেশ না করতে পারেন তাহলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যদি তিনি অভিযোগের পক্ষে প্রামাণ্য নথি দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী মানহানির জন্য উপযুক্ত দেওয়ানি এবং ফৌজদারি ধারায় মামলা করবেন।’ এই মর্মে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুক্রবার রাতেই আইনজীবীর মারফত লিগাল নোটিশ পাঠালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আইনি নোটিসে জানানো হয়েছে, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও মানহানিকর। নোটিসে অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে দেন। অথচ সেই অভিযোগের সমর্থনে কোনও তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন তাঁর কাছে নাকি এই অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই নোটিসে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত নথি, তথ্য ও প্রমাণ শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না করা হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি, দু’ধরনের মানহানির মামলা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীকে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জড়িয়ে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এই আইনি চিঠি নন্দীগ্রামের বিধায়কের। চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে বাংলা তথা গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, ইডি-র মাধ্যে তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এই তল্লাশি চলছিল। এই তল্লাশি প্রসঙ্গেই সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বেলাগাম আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ওরা বলছে কয়লার টাকা! কে খায়? অমিত শাহ খায়। গদ্দারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়। সাথে আছে জগন্নাথ। পুরীর জগন্নাথ নয়। জগন্নাথের সরকার। ওঁর মাধ্যম দিয়ে টাকা যায় শুভেন্দুর কাছে। তারপর সেই টাকা অমিত শাহের কাছে যায়।’
এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এবার প্রমাণ চেয়ে চিঠি পাঠালেন শুভেন্দুর আইনজীবী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দত্তক সন্তান বলেও নিশানা করেছেন। যা অপমানজনক বলেই মত শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীর। আইনজীবীর মারফত শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস পাঠিয়ে বলেছেন, গত ০৮.০১.২০২৬ এবং ০৯.০১.২০২৬ তারিখে অমিত শাহ কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত। মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, এই ধরনের অভিযোগের সমর্থনে আপনার কাছে প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই সব কথা বলে আদতে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার পরিবারের সদস্যদের এবং রাজনৈতিক দলের গুরুতর বিষয়গুলি থেকে জনসাধারণের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছেন। এটি একটি পরিকল্পিত এবং অশুভ পরিকল্পনা!
বিরোধী দলনেতা একটি পোস্টে লেখেন, ‘আজ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইডির তদন্ত থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য, আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মানহানিকর অভিযোগ করেছেন। মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ও আমার নাম ‘কথিত’ কয়লা কেলেঙ্কারির কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে দেন। ব্যক্তিগত অপমানে করা হয়েছে এই বেপরোয়া বক্তব্যগুলির মাধ্যমে। কোনও প্রমাণ ছাড়াই জনসমক্ষে এই অভিযোগগুলি করা হয়। এই ধরনের অপ্রমাণিত দাবি কেবল আমার সুনামকেই ক্ষুণ্ণ করেনি বরং জনসাধারণের আলোচনার মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করেছে।’ শুভেন্দু স্পষ্ট উল্লেখ করেন, যদি তিনি অভিযোগের পক্ষে প্রামাণ্য নথি দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি মানহানির জন্য উপযুক্ত দেওয়ানি এবং ফৌজদারি ধারায় মামলা করবেন।