সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘আমি জানি হামলার সঙ্গে কারা যুক্ত। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বেছে বেছে বের করব। আরামবাগে হারি বা জিতি, ৪ তারিখের পর সব হিসেব হবে।’ আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের গাড়িতে হামলার ঘটনায় এভাবেই হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সোমবার আরামবাগে শেষ লগ্নের প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যাওয়ার পথেই আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গোঘাট থেকে আরামবাগে যাওয়ার পথেই সাংসদের গাড়ি ব্যাপক ভাঙচুর চলে। হাসপাতালে গিয়ে অভিষেক তাঁর সঙ্গে দেখা করেই সভা শুরু করেন। সভা থেকে তিনি যে বড় বার্তা দেবেন এই প্রসঙ্গে, স্পষ্ট ছিল তা।
এদিন অভিষেক বললেন, ‘খেলা যখন আজ ওরা শুরু করেছে মিতালীর উপর আক্রমণ করে, শেষটা আমি করব চার তারিখ, কথা দিলাম।’ অভিষেক বলেন, যারা ভাবছে মিতালীর উপর কারা চড়াও হয়েছে আমরা জানি না, ঠিক তার পরেই নিজের ফোন থেকে নাম পড়ে শোনান। জানান, অল্প সময়েই তিনি প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়েছেন, কারা এই কাজ করেছে। সঙ্গেই বলেন, ‘আমরা গতবারও আরামবাগ হেরেছিলাম, পুরশুড়া হেরেছিলাম, গোঘাট হেরেছিলাম, খানাকুল হেরেছিলাম। কিন্তু উদারতায় পার পেয়ে গিয়েছিলেন, এবার আমি নিজে দায়িত্বে থাকব। চার তারিখ ১২টার পরে, কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা, আর কার দিল্লির বাবা কাকে বাঁচাতে আসে, আমি চার তারিখ দেখব।’
এর পাশাপাশি অভিষেক বলেন, ‘তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাচের টুকরো ঢুকে, বিভিন্নভাবে হাতে, পায়ে কোমরে চোট লেগেছে। আজ সিপিএম-এর হার্মাদগুলো জামা পাল্টে, জার্সি পাল্টে, কাস্তে হাতুড়ি তারা ছেড়ে দিয়ে পদ্মফুলের আশ্রয়ে রয়েছে। সিপিএম-এর হার্মাদরা বিজেপির জল্লাদ হয়েছে।’
অন্যদিকে নদীয়ার হরিণঘাটায় এক মেগা জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়া ভোট ব্যাংক থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজের টাকা, একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিঁধে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করার ডাক দিলেন তিনি। মতুয়া সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে উসকে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘২০১৯ সালে বিজেপি বলেছিল নাগরিকত্ব দেবে, কিন্তু দেয়নি। উল্টে গায়ের জোরে মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের হয়ে লড়াই করছে তৃণমূল। বিজেপির সরকার তো দেশের ১৬টি রাজ্যে রয়েছে। একটা রাজ্যেও কি বাংলার মতো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ করে দেখাতে পেরেছে? পারেনি।’ তাঁর হুঙ্কার, বিজেপি কেবল মানুষকে লাইনে দাঁড় করাতে জানে, কখনও নোটবন্দি তো কখনও এনআরসি-র নামে।

বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে ধুয়ে মুছে সাফ করার ডাক দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘৪ মে এর পর যেন বাংলায় বিজেপির ঝান্ডা ধরার মতো লোক না থাকে। বিজেপি জিতলে আপনাদের চোখে জল আসবে, আর তৃণমূল জিতলে মুখে হাসি ফুটবে।’ হরিণঘাটাকে উন্নয়নের নিরিখে নদীয়ার মধ্যে এক নম্বর করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।