সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
শারদোৎসব বাংলা সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। শিল্পীদের নিত্যনতুন সৃজনশীলতা ও আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণে শারদোৎসব বাংলার সংস্কৃতিকে দিন-দিন বৈচিত্র্যপূর্ণ, বর্ণময় ও নান্দনিক করে তুলেছে। শারদোৎসবকে আরও আকর্ষণীয় এবং বাঙালির শিল্পচেতনার গরিমাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দুর্গাপুজোর সেরা সম্মান ‘বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান’ পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। আজ এই ঘোষণা করেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।
অন্য বছরের মতো এ বারেও কলকাতা এবং জেলার শ্রেষ্ঠ পুজোগুলিকে সম্মানিত করবে রাজ্য। অন্তত ১২টি বিভাগে সেরা পুজোগুলিকে বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান দেবে রাজ্য। কলকাতা পুর এলাকার পুজোগুলি তো বটেই, শহর সংলগ্ন দক্ষিণ দমদম পুরসভা, বিধাননগর পুরসভা এবং বরাহনগর পুরসভার অন্তর্ভুক্ত পুজো কমিটিগুলি শ্রেষ্ঠ খেতাব পাওয়ার লড়াইয়ে অংশ নিতে পারবে। সীমিত বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে বাকি ২২টি জেলার পুজোগুলিও।
প্রতিযোগিতার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কুড়ি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। পুজো কমিটিগুলি অনলাইনে কিংবা অফলাইনে আবেদন জানাতে পারবে। কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার আবেদনপত্র মিলবে কলকাতা তথ্যকেন্দ্রে। জেলার পুজো উদ্যোক্তারা আবেদনপত্র পাবেন জেলা অথবা মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিকের দফতর থেকে। বিদেশের পুজোগুলিও অনলাইনে আবেদন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।
কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বিশিষ্টজনেরা সেরা পুজোগুলিকে বেছে নেবেন। শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পাওয়া পুজোগুলির নাম মহাষষ্ঠীর দিন ঘোষণা করা হবে। কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার সেরা ও আমন্ত্রিত পুজোগুলিকে নিয়ে রেড রোডে বিশেষ শোভাযাত্রা (কার্নিভ্যাল) হবে আগামী ৫ অক্টোবর। জেলার নির্বাচিত পূজাগুলিও ৮ অক্টোবর ২০২৫-এ নিজ নিজ এলাকায় মহা শোভাযাত্রার আয়োজন করবে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, সেরা ভাবনা, সেরা আলোকসজ্জা, সেরা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, সেরা সামাজিক সচেতনতা, সেরা জনসম্পৃক্ততা, সেরা নিরাপত্তা, সেরা শৃঙ্খলা এবং বিশেষ জুরি পুরস্কার— এই ক’টি বিভাগের শ্রেষ্ঠ পুজোগুলিকে পুরস্কৃত করা হবে। গত বছরই ইউনেস্কোর আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কলকাতার দুর্গাপুজো। সেই আবহে শহরের পুজোগুলির জৌলুস এ বার আরও বৃদ্ধি পেতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুর্গোৎসবকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ উৎসবকে শুধু রাজ্যের গণ্ডিতে নয়, দেশ-বিদেশে প্রচার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক মহল এর তদারকি করবে।