সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
এমনিতেই রাজ্যে সিপিএমের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। একাধিক নেতানেত্রী ইতিমধ্যেই দলবদল করে হয় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে, নয়তো বা বিজেপিতে। এবার উত্তর দমদম পুরসভা থেকে বড় ধাক্কা খেল লাল শিবির। এই পুরসভায় মোট ৩৪ টি ওয়ার্ড রয়েছে। তারমধ্যে একটি মাত্র ওয়ার্ড দখলে ছিল সিপিএমের।
উত্তর দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর সন্ধ্যারানি মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দিলেন। রবিবার, উত্তর দমদমের পুরপ্রধান ও দমদম উত্তরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত থেকে পতাকা তুলে নিলেন তিনি। এরফলে গোটা উত্তর দমদম পুরসভা বিরোধী শূন্য হয়ে গেল।
তিনি ছিলেন পুরসভার একমাত্র বিরোধী দলের প্রতিনিধি। তাঁর এই সিদ্ধান্তে উত্তর দমদম পুরসভা এখন সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেল।
সন্ধ্যারানি মণ্ডল দীর্ঘ তিন বছর ধরে সিপিএমের হয়ে কাজ করেছিলেন। ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে ৩৪ ওয়ার্ডের উত্তর দমদম পুরসভার ৩৩টি ওয়ার্ড তৃণমূল জিতলেও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিআইএম জয়ী হয়েছিল। সন্ধ্যারানির দলত্যাগের ফলে বাম শিবিরের শক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ল। তিনি জানান, দলের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে তিনি অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “তিনি আমাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে তাঁকে দলে ভেড়ানো হয়েছে।” এই যোগদানের ফলে উত্তর দমদম পুরসভায় এখন কোনো বিরোধী দল নেই।
দলবদল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বিভিন্ন কাজে দলের উঁচুতলার নেতাদের ‘ছড়ি ঘোরানো মানসিকতা’ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন সন্ধ্যারানি। এই মানসিকতাতেই বিরক্ত হয়ে রবিবার তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তিনি ।
রবিবার, আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর দমদমের পুরপ্রধান ও দমদম উত্তরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত থেকে পতাকা তুলে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন সন্ধ্যারানি।

দলবদল করার পর সিপিএমের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন সন্ধ্যারানি। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে সিপিএমের তরফে পুরভোটে দাঁড় করিয়ে জনপ্রতিনিধি করলেও কাজ করার ক্ষেত্রে দলের তরফেই নানা বাধা আসছিল। তাই দল ছেড়ে তিনি শাসক শিবিরে যোগ দিলেন। এই যোগদানের ফলে বিরোধী শূন্য হয়ে গেল উত্তর দমদম পুরসভা।