সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।
২ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত রাজ্যের কোনও পুলিশ কর্মীকে ছুটি দেওয়া যাবে না। এবার এমনই নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। অতিরিক্ত ডিজিপি (প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা) এই নির্দেশ জারি করেছেন। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কেন এমন ফরমান জারি? দু’দিন আগে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন, গোপন সূত্রে তাঁরা খবর পেয়েছেন, রামনবমীতে অশান্তি ছড়ানোর ছক কষা হয়েছে।
২ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত পুলিশ কর্মীর ছুটি বাতিল হয়ে গিয়েছে। একান্ত খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ছুটি নিতে পারবেন না বলে সূত্রের খবর। শহরের নানা জায়গা থেকে রামনবমীর মিছিল বের হবে। সেখান থেকে যাতে কোনও অশান্তি ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্যই পুলিশের ছুটি বাতিল করা হল। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করতেই হাজারে হাজারে পুলিশ কর্মীদের নামানো হবে রামনবমীর দিন। আর তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পুলিশকর্মী। তাই পুলিশ কর্মীদের সকলের এই কটা দিন ছুটি বাতিল করা হল বলে লালবাজার সূত্রে খবর।
অন্যদিকে প্রত্যেক বছরই রাম নবমীর দিন শহর কলকাতায় এবং রাজ্যের নানা প্রান্তেই একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। কিন্তু এই রামনবমীর শোভা যাত্রায় বারবার অশান্তি হয়েছে। এমনকী গুলিও চলেছে। এবার এইসব অশান্তি হোক চাইছে না রাজ্য সরকার। আর তাই পুলিশ নামানো হচ্ছে শহরে। ওই দিন বড় অংশের মানুষের ঢল নামবে রাস্তায়। এমনটাই মনে করছে পুলিশ। তাই নির্দেশিকায় রাজ্যের আইজিপি, সিপি, ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার, আরপি এবং বিশেষ বাহিনীর অফিসারদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই নির্দিষ্ট সময়ে ছুটি মঞ্জুর করা যাবে না।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরো পুলিশ ফোর্সকে সতর্ক রেখে ছুটির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানিয়ে দিয়েছেন, অস্ত্র নিয়ে রামনবমীর শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না। সমস্ত লোকাল থানাকে সে কথা জানানো হয়েছে। লোকাল থানা সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের তা জানিয়ে দিয়েছে। এবার যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিক কড়া নজর রাখা হচ্ছে। নজরদারি করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা স্পষ্ট বলেছেন, ‘ওই দিন অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স থাকবে। কেউ প্ররোচনায় পা দেবেন না। অস্ত্র নিয়ে বেরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’