সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘কমিশন এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করছে। মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে।’ বুধবার ভবানীপুরে নিজের ভোট দেওয়ার পরে এভাবেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার সকালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় তৃণমূল সেকেন্ড-ইন কমান্ডের দাবি, এই নির্বাচনে বিজেপিকে ৫০ এর নিচে নামাতেই হবে। এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। অভিষেকের গলাতেও শোনা গেল এক সুর।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিতৎপরতা নিয়েও সরব হয়ে তিনি বলেন, ‘আধাসেনাকে দিয়ে মহিলাদের উপর অত্যাচার, গরিব মানুষের উপর অত্যাচার। আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে বিজেপি বাংলাকে দখল করতে চায়। আগামী ৪ তারিখ এদের আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা।’ এখানেই শেষ নয়, অভিষেক ভোট দেওয়ার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘এই ভোট আমাদের প্রিয় বাংলার জন্য। বাংলার মানুষের জন্য, চেতনার জন্য এবং যৌথ ভবিষ্যতের জন্য। আমি সবাইকে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। তুচ্ছ রাজনীতির নামে দীর্ঘ লাইনের অজুহাতে মানুষ যে হয়রানির শিকার হয়েছে, আপনার ভোট যেন তাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।’
এদিন মিত্র ইনস্টিটিউশনে বুথে ভোটে দিয়ে অভিষেক বললেন, ‘ভারতীয় সেনার রাফাল আর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা শুধু বাকি আছে। ওটাও করে দিন না। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যা করা উচিত তা আপনারা বাংলার বিরুদ্ধে করছেন। দ্বিতীয় দফাতেই দফারফা হবে বিজেপি। স্পেশাল অবজার্ভারের কি এক্তিয়ার রয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেইড করার? তাঁরা তো নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দেবে। এসব করে কোনও লাভ হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরবে। ২০২১ সালের চেয়েও বেশি ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল।’
অভিষেকের দাবি, হাইকোর্টের অর্ডার থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষদের ভয় দেখাতে এক্তিয়ার বিরুদ্ধ কাজ করা হচ্ছে। এমনিতেই গায়ের জোরে ৩০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। এতে কোনও লাভ হবে না। প্রথম দফায় বিজেপি কুপোকাত হয়ে গিয়েছে। এই দফায় দফারফা হবে।

কমিশনের বিরুদ্ধেও তোপ দাগলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। বলছেন, ‘এক্তিয়ার বিরুদ্ধ কাজ করছে। সিআরপিসি-র কোথাও কোনও প্রভিশন নেই। বিএনএসের প্রভিশন নেই। নির্বাচন কমিশনের কোনও গাইডলাইন নেই। কোনও অবজার্ভারকে অধিকার দেওয়া নেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেড করার। অবজার্ভাররা নির্বাচন কমিশনের চোখ ও কান হিসাবে কাজ করবে এবং রিপোর্ট দেবে এসপি-কে। রিপোর্ট দেবে নির্বাচন কমিশনকে। তারপর নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে কী করা উচিত। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে ধমকানো, চমকাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনও কেস নেই, সেই সব তৃণমূল কর্মীদের শাসাচ্ছে-চমকাচ্ছে। এইসব করে কোনও লাভ হবে না। উত্তর প্রদেশ থেকে এক অফিসার নিয়ে আসা হয়েছে ফুটেজ খেতে। নিজের ফুটেজ বেরিয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের রুল বুক মেনে কাজ করছেন না পর্যবেক্ষকরা। এই সব কোনও ট্রিকই কাজ করবে না। ব্যালট খুললে ছবি স্পষ্ট হয়ে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেস আরও বেশি ভোট ও সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।’