সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
খুঁটি পুজো মানেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা। বাংলার প্রতিটি পাড়ার পুজো কমিটি, ক্লাব বা বারোয়ারি আয়োজক খুঁটি পুজোর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা করে।
সাধারণত রথযাত্রা কিংবা শ্রাবণ মাস থেকেই খুঁটি পুজো শুরু হয়।
এই দিনে পুজো মণ্ডপ নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় খুঁটি বসানো হয় এবং মাটির স্পর্শে ঘটে, নারকেল, ফল, মিষ্টি ও ফুল দিয়ে মাতৃ বন্দনা করা হয়।

তাই শ্রাবণ মাসের পুণ্য তিথিতে ৪২ তম বর্ষে দুর্গা পুজোর খুঁটি পুজো করে এবারের প্রস্তুতি শুরু করে দিল সোনারপুরের ঐতিহ্যবাহী দূর্গা পুজা কমিটি সোনারপুর মিলন পল্লী দুর্গোৎসব।

খুঁটি পুজো শুধু আচার নয়, এটি আবেগ, মিলন এবং উৎসবের উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয়। এদিন থেকেই শুরু হয় মণ্ডপ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, থিম ও সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি। অনেক ক্লাব খুঁটি পুজো উপলক্ষে থিম লঞ্চ অনুষ্ঠানও করে, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিপুল আগ্রহ তৈরি করে।

খুঁটি পুজো শুধু এক দিনের নয়, এটি চার দিনের দুর্গোৎসবের প্রাণের উচ্ছ্বাসের প্রথম সুর। এটি বাংলার সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক।

সোনারপুর মিলনপল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি গত ২৭ জুলাই রবিবার ক্লাব প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪২ তম খুঁটি পুজো সম্পাদন করে। উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সম্পাদক শঙ্কর বোস ওরফে এলাকার মানুষের প্রিয় শঙ্কুদা, কাউন্সিলর সন্দীপ নস্কর, পুজো কমিটির সদস্য ও সাধারণ এলাকার মানুষ। ২০২৫ সালে Durga Puja শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর—ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পঞ্চমী থেকে দশমী ধারণা করা হয়—তবে গতকাল এ ধর্মীয়-পারিপার্শ্বিক সূচনা নিশ্চিত করে সময়মতো প্রস্তুতির স্বাদেশ।

এই পুজোর অন্যতম প্রাণপুরুষ শঙ্কু দা তথা শঙ্কর বোস বলেন, “উৎসব হলো স্থানীয় মানুষের আবেগের মিলন। সাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক একতার শুভ সূচনা।”
৪২ তম বর্ষে সোনারপুর মিলনপল্লীর দূর্গা পূজার থিম “পাখির বাসা”।