শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
নতুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বঙ্গ বিজেপি। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই শেষ কথা বলবে। জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার। রবিবার বিধাননগরে দলীয় কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ে সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই বৈঠকে যোগ দেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মঙ্গল পান্ডে, অমিত মালব্য, সতীশ ধনদ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অমিতাভ চক্রবর্তী, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিজেপির সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে যোগ দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, নেতৃত্বে বদল হতে পারে, কিন্তু সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজ ধারাবাহিক ভাবে চলবে।
সাংগঠনিক বৈঠকের শেষে সাংবাদিক বৈঠক করেন সুকান্ত মজুমদার। সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “রাজ্য সভাপতি নিয়োগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। এখনও কোনও কেন্দ্রীয় নির্দেশ আসেনি। উপর থেকে নির্দেশ এলে রাজ্য সভাপতি নির্বাচন শুরু হবে।” তিনি আরও জানান, “কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে ২৫টি জেলার সভাপতি নির্বাচন শেষ হয়েছে। তার মানে তারা রাজ্য সভাপতি নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের থেকে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। নেতার পরিবর্তন হয় মুখের পরিবর্তন হয়। পদে নতুন নেতা আসে কিন্তু কাজের পরিবর্তন হয় না। নতুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচন করতে আমরা প্রস্তুত। ২৫ জন জেলা সভাপতির নাম ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে। ২২ জন জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা হলেই ভোটাভুটির মাধ্যমে রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা হতে পারে।”
অন্যদিকে, ভোটের আগে আইপ্যাক নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। শনিবার যখন আইপ্যাকের উপর জোর দিয়েছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই সময় আবার এই আইপ্যাককে কটাক্ষ বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর আশঙ্কা ভোট লুঠে ব্যবহার করা হতে পারে আইপ্যাক কর্মীদের।
রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম আছে। এই ধরনের এজেন্সি ঘরে বসে কাজ করুক ঠিক আছে। কিন্তু একুশের ভোটে আমরা দেখেছিলাম মাঠে নেমে কাজ করছে। এরা সেই সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঁচশো টাকা করে ঢুকিয়েছিল। আমি ধরেও ছিলাম আমাদের ওইখানে কয়েকজনকে।” তিনি এও প্রসঙ্গে আরও বলেন, “এই ধরনের এজেন্সির ব্যবহার কি আদৌ ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে স্বাস্থ্যকর? ঠান্ডা ঘরে বসে কাজ করলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমার মতে নিচে নেমে যদি জনগণের মতকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে আমার মনে হয় সেক্ষেত্রে ভারতে তর্ক-বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন আছে।”
সুকান্ত এ দিন বলেন, “বিরোধী দলনেতা আগেই বলেছেন ওয়েবেলে প্রচুর আইপ্যাকের কর্মচারীকে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের ব্যবহার করা হতে পারে ভোট লুঠের ক্ষেত্রে।”

এ দিকে, আইপ্যাকের উপরই ভরসা অভিষেকের। গতকালের বৈঠকে আইপ্যাকের নাম করে টাকা তোলার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন। বলেছেন, “আইপ্যাকের নাম করে ব্লক সভাপতি করে দেব বলে টাকা চাইছে। একটি নম্বর দিলাম ফোন করে যাচাই করে নেবেন।”
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন,”এটা সম্পূর্ণ ভুল। আইপ্যাক একটা নিজস্ব এজেন্সি। ওরা নিজেরা নিজেদের মতো কর্মী নিয়োগ করেন। আর সবচেয়ে বড় কথা বিজেপি এই ধরনের কথা যত কম বলবে ততই মঙ্গল।”