সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
আমি অত্যন্ত আনন্দ এবং গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে, সমগ্র বাংলা থেকে এক কোটিরও বেশি মানুষ আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধাণ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, যাতে তাঁদের এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়। এত দ্রুত এক কোটির গণ্ডি অতিক্রম করার জন্য সকলকে অভিনন্দন! এভাবেই ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের শিবিরে এক কোটির বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার নিজেই এক্স হ্যান্ডেলে এই প্রকল্প নিয়ে গর্বের সুরে পোস্ট দিয়েছেন মমতা। মাত্র ২৬ দিনে এই প্রকল্পে মানুষের যোগদান ছুঁয়ে ফেলেছে এক কোটির গণ্ডি। অর্থাৎ, এক কোটির বেশি মানুষ ২৬ দিনে এই প্রকল্পের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা বুথে বুথে নানা সমস্যা খতিয়ে দেখে কী ভাবে সমাধান সম্ভব, তার রূপরেখা তৈরি করছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার এই সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রাজ্য সরকারের এই আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নারী-পুরুষ ভেদে বাংলার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই রাজ্যের মানুষের জন্য আরও শক্তিশালী এবং প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন মমতা।
শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখেন, আমি এই সুযোগে সকল জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যাঁরা এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন, এইভাবে এই রাজ্যের সকল নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। এছাড়াও, আমি বাংলার প্রতিটি ব্যক্তির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যারা আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন এবং আমাদের প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করেছেন। আমরা বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে তাঁদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়াও, আমি নিশ্চিত করছি যে আরও দায়িত্ব পালনের জন্য এবং আপনার সমস্যার দ্রুত এবং অর্থপূর্ণ সমাধান প্রদানের জন্য, আমাদের মা-মাটি-মানুষ সরকার সর্বদা আপনার পাশে আছে এবং আগামী দিনগুলিতেও থাকবে।
নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ কর্মসূচি হবে বুথভিত্তিক। তিনটি বুথ নিয়ে একটি পাড়া। প্রতিটি বুথের জন্য বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা। একেবারে বুথ স্তরে গিয়ে এলাকার মানুষের সমস্যার কথা শুনবেন সরকারি আধিকারিকেরা। তার পরে সেখানে সমস্যার সমাধান করা হবে। রাজ্যে মোট ৮০ হাজার বুথ। সেই অঙ্কে এই কর্মসূচিতে রাজ্যের কোষাগার থেকে খরচ হবে ৮০ হাজার কোটি টাকা।

একটি বুথে স্বল্পদৈর্ঘ্যের রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জলের কল, গ্রামাঞ্চলে ছোটখাটো সেতুর মেরামতি, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো ছোট ছোট দাবি থাকে। সরকার সেগুলিই পূরণ করতে চাইছে। নতুন কর্মসূচির জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের কথাও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই টাস্ক ফোর্সের মাথায় রাখা হয়েছে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে।